ডেভেলপারের তৈরি ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে জমির মালিকদের
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৪:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

এখন থেকে জমির মালিকদের প্রাথমিক সাইনিং মানির পাশাপাশি ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার বিপরীতে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত অর্থ বিলের আয়কর বিধিতে এই পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট ও অন্যান্য অ-নগদ (নন-ক্যাশ) সুবিধাকে করযোগ্য লাভ হিসেবে বিবেচনা করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের পরিধি আরও বাড়ানোই এই প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য।
বর্তমানে কোনো জমির মালিক ডেভেলপারদের সঙ্গে চুক্তি করার সময় যে নগদ অর্থ পান, তা ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে পরিচিত। এর ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স রয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে জমির মালিকরা যে ফ্ল্যাট পান, তার ওপর কোনো কর দিতে হয় না।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী জমির পরিবর্তে যে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তার মূল্য নির্ধারণ (ভ্যালুয়েশন) করা হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারিভাবে নির্ধারিত বর্তমান মূল্য বা মৌজামূল্যের ভিত্তিতে। সেখান থেকে ওই সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য বাদ দেওয়া হবে। বাকি টাকাকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ধরে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তা জানান, দুই দশক আগে ৫০ লাখ টাকায় ১০ কাঠার একটি প্লট কিনে পরে তা ডেভলপারের কাছে হস্তান্তর করা জমির মালিকের ওপর বড় অঙ্কের করারোপ হতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি ২০ বছর আগে ৫০ লাখ টাকায় ১০ কাঠা জমি কেনার পর এখন জমিটি ডেভেলপারকে দিয়ে ডেভেলপ করার সময় সাইনিং মানি হিসেবে পেয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। তিনি ২০ অ্যাপার্টমেন্টের একটি প্রকল্প থেকে ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট পেলে এবং মৌজামূল্য হিসেবে প্রতি অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৫০ লাখ করে হলে ১০টির দাম হবে ৫ কোটি টাকা।
সাইনিং মানির অর্থসহ জমির মালিকের মোট অর্জন হবে ৫.৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে তার অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে আগের ৫০ লাখ টাকা বাদ যাবে। সেক্ষেত্রে তাকে ৫ কোটি টাকার উপর ১৫ শতাংশ হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা বাড়তি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে।
তবে করের পরিমাণ এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া কেউ যদি পৈত্রিক সূত্রে জমি পান এবং ওই জমি বেশ আগে অর্জিত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার অর্জন মূল্য কম হবে।
বর্তমানে এলাকাভেদে জমির পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টের মৌজামূল্য নির্ধারিত রয়েছে। মৌজামূল্য নির্ধারণ কমিটি এই দর হালনাগাদ করে থাকে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বছরে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আমার বার্তা/এমই
