মার্চ পর্যন্ত মোট বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার: সংসদে অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৯:২০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

গত মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৮২২ কোটি মার্কিন ডলার। আজ বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
দিনের কার্যসূচির শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ সহজ শর্তের এবং ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ কঠিন বা বাণিজ্যিক শর্তের ঋণ।
মন্ত্রী বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে দেশের বৈদেশিক ঋণের সহজ শর্তের সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
এছাড়া, ওই সময় থেকে সরকারের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে সামনের বছরগুলোতে সরকারের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বা দায় আরও বাড়বে।
এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিএনপি সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, নতুন বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণের প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাবগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যেন উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণ নিয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হয়।
মন্ত্রী বলেন, 'শুধু আর্থিকভাবে লাভজনক প্রকল্পগুলোর জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধির যে সংস্কৃতি, তা থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা প্রকল্পগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।'
তিনি জানান, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই ও সহনশীল করতে সরকার মধ্যমেয়াদী ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল হালনাগাদ করার কাজ করছে এবং ঋণের স্থায়িত্বশীলতা বিশ্লেষণ করছে।
সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভাবমূর্তি আরও উন্নত করতে সম্প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের একটি পরিকল্পনার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু।
আমার বার্তা/এমই
