ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে মার্কিন ফেডারেল বাজেট ঘাটতি

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

২০২৬ অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন (২০০ হাজার কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এই ঘাটতি মার্কিন ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গিয়েছিল কেবল মহামারীর সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে। আর এর মাধ্যমে টানা ২৫ বছর ধরে বার্ষিক বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় অক্টোবর মাসে এবং শেষ হয় সেপ্টেম্বরে। সেই হিসেবে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৩০ সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরের তুলনায় এবার ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালে দেশটির সরকারের মোট আয় (রাজস্ব) হয়েছে ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। আয়ের সিংহভাগই এসেছে ব্যক্তিগত আয়কর (২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং পে-রোল বা বেতনভিত্তিক কর (১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার) থেকে। 

অন্যদিকে খরচ ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে। খরচের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ছিল সামাজিক নিরাপত্তা বা সোশ্যাল সিকিউরিটি (১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার), মেডিকেয়ার (১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার), ঋণের নিট সুদ পরিশোধ (১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার), স্বাস্থ্য খাত (১ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং প্রতিরক্ষা (৯৬৫ বিলিয়ন ডলার)।

সম্প্রতি জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় বাজেট ঘাটতির এই নতুন হিসেব সামনে এসেছে। ঋণের বিশাল বোঝার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বেশি থাকায় ট্রেজারির সুদ পরিশোধের খরচ একলাফে অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে সরকারের বাজেটে খরচের ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম খাতই হলো এই ঋণের সুদ প্রদান। মহামারী বা অর্থনৈতিক মন্দার মতো বড় কোনো বাহ্যিক সংকট ছাড়াই এমনকি অর্থনীতি যখন বেশ ভালো গতিতেই এগোচ্ছে তখন বাজেট ঘাটতি ও ঋণের এমন উল্লম্ফন বেশ অস্বাভাবিক একটি বিষয়।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘাটতির এই চিত্রটি মনে করিয়ে দেয় যে দেশের অর্থনৈতিক নীতির গতিপথ অবিলম্বে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ‘কমিটি ফর আ রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেট’-এর মায়া ম্যাকগিনাস বলেন, ‘আমেরিকার আর্থিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এটি সামলাতে আমাদের এখনই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও জানান, বাজেট একবারে পুরোপুরি উদ্বৃত্ত করা বা রাতারাতি সব ঋণ শোধ করার মতো অবাস্তব লক্ষ্য না নির্ধারণ করে আইন প্রণেতাদের একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে আমাদের এমন কিছু বেছে নিতে হবে যা একই সাথে কঠোর কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্য। বাজেট ঘাটতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা (যা বর্তমান পরিমাণের অর্ধেক) সেরকমই একটি উপযুক্ত লক্ষ্য হতে পারে। এটি জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাতকে স্থিতিশীল রাখবে। তবে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর আমাদের হাতে সময়ও খুব বেশি নেই।’