একাডেমিক পারফরম্যান্স দেখেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, পিএইচডি, পোস্ট-ডকসহ সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্সকে প্রধান বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রার্থীদের একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করে যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। একইসঙ্গে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. মাসউদকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন।
উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন উপাচার্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, একাডেমিক যোগ্যতা, পিএইচডি, পোস্ট-ডক এবং সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা প্রত্যেক প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছি এবং যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা আনা হচ্ছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান হতে হলে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে।
স্কুলে ভর্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি ধাপে ধাপে বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লটারি পদ্ধতি মেধা যাচাইয়ের কার্যকর উপায় নয়। অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।
তবে এই পরীক্ষা অত্যন্ত সহজ ও শিশুবান্ধব হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে না, যাতে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ পড়ে। পরীক্ষাটি হবে সাধারণ ও মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলেও যাতে কোচিং বাণিজ্য বাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। প্রয়োজনে স্কুলের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরীক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আনার জন্য কোটাভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকবে। বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পায়, যা অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বা গভর্নিং কমিটির সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমার বার্তা/এমই
