সরকারি নিয়মের বাইরে থাকতে পারবে না ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থাকবে কিন্তু তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মের বাইরে থাকতে পারবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিলেটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট শিক্ষাবোর্ডের আয়োজনে নগরীর মেন্দিবাগ এলাকার জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে সরকারি নিয়ম ও রেগুলেশন বোর্ডের অধীনে আনার জন্য কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মের বাইরে থাকতে পারবে না।
শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট যেন শুধু রেমিট্যান্স বা ডলারে নয়, শিক্ষাতেও প্রথম হয়। জিয়া ফাউন্ডেশনের মতো ‘সিলেট এডুকেশন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করে যুক্তরাজ্য থেকে পাউন্ড এনে শিক্ষাখাতের উন্নয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিলেটের সকল সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল নকল’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা ঠিকমতো না পড়ালে বা মানসম্মত শিক্ষার অভাব থাকলে ছাত্রছাত্রীরা নকলের আশ্রয় নেয়। আগে নকল ছিল ব্যক্তি পর্যায়ে, এখন কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘নকল’ শব্দটির সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনের আওতায় আনা যায়।
তিনি বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এতে কেন্দ্রের ভেতরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল বন্ধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় এর পেছনের কারণগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে মানসম্মত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি ও পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার চাপ নকলের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পড়াতে হবে। তারা যেন পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে অংশ নিতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও একরূপতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, বিগত সরকারের সময় এই দায়িত্বে যারা ছিল তারা ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার কারণে বর্তমান বাজেটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
পরীক্ষার খাতা দেখার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং শিক্ষকদের খাতা ‘বর্গা’ দেওয়ার (অন্যকে দিয়ে খাতা দেখানো) সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে খাতা মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা বোঝার জন্য ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
আমার বার্তা/এমই
