সংস্কৃতি ও ধর্মকে জোর করে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়: সংগীত প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৪:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘দেশে অনেক সময় সংস্কৃতি ও ধর্মকে জোর করে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়। অথচ আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশে সংগীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে মোরাল এথিক্যাল শিক্ষা যদি দিতে হয় তাহলে সবচেয়ে শক্ত সুন্দর মোরাল শিক্ষার উৎস হবে সংগীত। আমাদের মহান ধর্ম ইসলাম ধর্মেও পরিষ্কার বলা আছে যে, সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কাজ হলো যে কাজটা আল্লাহ তায়ালার কাছে তোমাকে নিয়ে যায়। বিগত ১৪০০ বছরে আমরা দেখেছি অনেক আলেম এই সংগীতের মাধ্যমে আমাদের ইন্সপায়ার (অনুপ্রাণিত) করেছেন পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে পৌঁছাতে। আমাদের দেশে কেন যেন কালচার আর ধর্মকে জোর করে একটা অপরের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু স্পিরিচুয়ালিটি বলেন, ইতিহাস বলেন বা বেসিক হিউম্যান এক্সপ্রেশন বলেন, সংগীত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘সংগীত মানুষের জীবনের গভীরতম অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। মানুষ দুঃখের সময় যেমন গান শোনে, তেমনি আনন্দ, প্রেম কিংবা আবেগের মুহূর্তেও সংগীতের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। মানুষের সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা ও ভালোবাসার প্রকাশে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আইকনিক হলো কাজী নজরুল ইসলাম এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুধু সংগীত না, ওভারঅল লিটারেচার। রবীন্দ্রনাথের ইমপ্যাক্ট, কাজী নজরুল ইসলামের ইমপ্যাক্ট বাংলার কালচার, ঐতিহ্য সবকিছুতে অপরিসীম।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প ও সাহিত্যকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার মধ্যে আবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও চিন্তার আলোকে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা অন্যান্য শিল্প-সাহিত্যকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করবে, যা স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক।’
ভাষা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ভাষা একটি ক্রমবিবর্তনশীল বিষয়। সময়ের সঙ্গে ভাষার ব্যবহার ও প্রকাশভঙ্গি পরিবর্তিত হলেও শিক্ষাঙ্গনে প্রমিত বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সাংস্কৃতিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আবৃত্তি, কেরাত, নাচ, নাটক ও সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সুযোগ নেই। সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি শিক্ষার্থীদের মানবিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
