বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম: কর্মশালায় বক্তারা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৫:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICVD) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (BCTI)-এর যৌথ উদ্যোগে “বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, সমস্যা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ বুধবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইউপি’র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিন রাকিব। তিনি মূল প্রবন্ধে তুলে ধরেন যে, বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম। তবে নির্মাণে নীতিগত ও কারিগরি কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে এর ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চার এই যুগে বিশেষায়িত চলচ্চিত্র দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গণমাধ্যম খাতের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে উঠবে।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক ডা. বুলবুল বিশ্বাস, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (IUB) মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইমরান ফেরদৌস, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যার্ডিওলজী বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ উল্লাহ ফিরোজ এবং বিসিটিআইয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মোকছেদ হোসেন।
 
আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র কেবল প্রশিক্ষণের মাধ্যম নয়, এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক আর্কাইভ গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।

ডা. বুলবুল বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসা ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রের সমন্বয়ে নির্মিত বিশেষায়িত চলচ্চিত্র ভবিষ্যতের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

ইমরান ফেরদৌস বলেন, পেশাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে জ্ঞান স্থানান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং জ্ঞান বিনিময়ের জন্য বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাক্তার, শিক্ষার্থী, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


আমার বার্তা /জেএইচ