দর্শকদের ভালো লাগলেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ আবু সাঈদ

চলচ্চিত্র পরিচালক কামরুজ্জামান । সম্প্রতি তার পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র সিক্যুয়েল ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’।
নব্বই দশকে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছিল ফেরদৌস-প্রিয়াঙ্কা জুটির সিনেমাটি। ২৮ বছর পর মূল গল্পকে অপরিবর্তিত রেখে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি তৈরি করেছেন এই তরুণ নির্মাতা।
শুক্রবার মুক্তি পাবে তার ‘স্নেহের বন্ধন’ নামে নতুন আরেকটি সিনেমা। সিনেমা দুটি নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক আমার বার্তার সঙ্গে তিনি।
পরপর দুটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে-একটি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এবং অন্যটি এই শুক্রবার আসছে। অনুভূতি কেমন?
অনুভূতি সত্যিই দারুণ, তবে একইসঙ্গে কিছুটা মানসিক চাপও কাজ করছে। আমাদের দেশে একই পরিচালকের পরপর দুটি সিনেমা এত কম সময়ের ব্যবধানে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটির রেশ কাটতে না কাটতেই এই শুক্রবারে মুক্তি পাচ্ছে ‘স্নেহের বন্ধন’। সিনেমা দুটির পেছনে আমাদের পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। দর্শকদের ভালো লাগলেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।
‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি তো বেশ কয়েকবার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে গিয়েছিল। অবশেষে এটি প্রেক্ষাগৃহে আসছে, বিলম্বের মূল কারণগুলো কী ছিল?
কৌশলগত ও পারিপার্শ্বিক জটিলতার কারণে সিনেমাটির মুক্তি কয়েকদফা পেছাতে হয়েছিল। আমরা তাড়াহুড়ো করে সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আনতে চাইনি। হলের প্রস্তুতি, সঠিক সময়ে প্রচারণার পরিকল্পনা এবং উৎসবের আমেজ—সবকিছু মিলিয়েই এবার আমরা শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে সিনেমাটি মুক্তি দিচ্ছি।
‘স্নেহের বন্ধন’ দর্শক কেন দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবেন? এই সিনেমার মূল শক্তি এর গল্প এবং কলাকুশলীদের অভিনয়। এটি আমাদের চেনা জানা সমাজেরই একটি পারিবারিক গল্প, যা প্রতিটি সাধারণ মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করবে। প্রধান দুটি চরিত্রসহ প্রত্যেকেই তাদের সেরা অভিনয়টা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান সময়ে পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে দেখার মতো সিনেমার যে একটা অভাব রয়েছে, তা এই সিনেমাটি পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
বর্তমানে দেশের সিনেমা হলের সংখ্যা ও দর্শক উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে পরপর দুটি সিনেমা নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
চ্যালেঞ্জ তো সবসময়ই থাকে, তবে আমি ইতিবাচক ভাবতেই পছন্দ করি। দর্শকরা যদি ভালো গল্প এবং মানসম্মত নির্মাণ পান, তবে তারা অবশ্যই হলে আসেন—এটি প্রমাণিত। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ নিয়ে আমরা যেমন সাড়া পেয়েছি, আশা করছি ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটিও দর্শক গ্রহণ করবেন। সিনেমা হলের সুদিন ফিরিয়ে আনতে আমাদের নিয়মিত ভালো সিনেমা বানিয়ে যেতে হবে, আর আমি সেই চেষ্টাই করছি।
