রোগীদের সেবায় ২৫টি হুইলচেয়ার দিলেন ‘পদবঞ্চিত’ বিএমইউ চিকিৎসকরা
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর বৈষম্যের অবসান হয়েছে। মিলেছে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি আর পেশাগত স্বীকৃতি। তবে সেই আনন্দ উদ্যাপনে কোনো উৎসব বা ভোজের আয়োজন করেননি চিকিৎসকেরা; বরং বেছে নিয়েছেন রোগীদের সেবার এক অনন্য পথ।
মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বিএমইউর ৪৫ জন চিকিৎসক নিজেদের অর্থায়নে হাসপাতালের রোগীদের জন্য উপহার দিয়েছেন ২৫টি হুইলচেয়ার।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে বিএমইউর বি ব্লকের নিচতলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হুইলচেয়ারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বছরের পর বছর পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা এই চিকিৎসকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণকে রোগীদের চলাচলের কষ্ট লাঘবে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘যারা অনুকূল ও প্রতিকূল– এই উভয় সময়েই দায়িত্ব পালন করেন, তারাই প্রকৃত লিডার। বিগত সময়ে বিএমইউর যেসব চিকিৎসক পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন, আজ তারা একটি অনন্য ও অনুসরণযোগ্য উদাহরণ তৈরি করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই চিকিৎসকেরা চাইলে আজ ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ উদ্যাপন করতে পারতেন, পিকনিক করতে পারতেন কিংবা অন্য কোনো আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে রোগীদের কথা স্মরণ রেখেছেন এবং হুইলচেয়ার দান করেছেন। এটি মানবতার এক মহৎ দৃষ্টান্ত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএমইউর চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠান এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রোভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পরও চিকিৎসকদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে– তাদের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই, আছে দায়িত্ববোধ।’ প্রোভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলদার মনে করেন, ন্যায্যতা ফিরে এলে মানুষ সমাজের জন্য কীভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি তারই বড় প্রমাণ।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। এই হুইলচেয়ারগুলো সরাসরি রোগীদের যাতায়াত ও চিকিৎসাসেবায় সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পক্ষে বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব। তারা বলেন, দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার হওয়ার পরও এই উদ্যোগ চিকিৎসক সমাজের নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই চিকিৎসকেরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পরে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করলে বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে সেই বৈষম্য নিরসন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা একমত হন যে, দীর্ঘ বঞ্চনার পরও মানবিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতাই একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. শরীফ মো. আরিফুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
