এথিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল ছাড়া গবেষণা গ্রহণযোগ্য নয়: বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

এথিক্যাল অনুমোদন ও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক গবেষণা প্রোটোকল ছাড়া কোনো গবেষণাই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে অভিমত দিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, গবেষণার উদ্দেশ্য নির্ধারণ থেকে শুরু করে স্ট্যাডি ডিজাইন, স্যাম্পল সাইজ নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ ও ডাটা বিশ্লেষণের প্রতিটি ধাপে প্রোটোকল অনুসরণ না হলে গবেষণার ফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগ আয়োজিত গবেষণা প্রোটোকল রচনায় দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক ‘হাউ টু রাইট রিসার্চ প্রোটোকল’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। 

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, চিকিৎসা গবেষণায় এথিক্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রোগীর নিরাপত্তা, সম্মতি এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা না করে কোনো গবেষণা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি তরুণ গবেষকদের শুরু থেকেই সঠিক প্রোটোকল অনুসরণ করে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় প্রধান রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, গবেষণা প্রোটোকল কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নথি নয়; এটি পুরো গবেষণার রোডম্যাপ। প্রোটোকলে যদি গবেষণার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও এথিক্যাল বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই গবেষণা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও টেকসই হয় না।

কর্মশালায় প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বারডেম হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান (জিএইচপিডি) অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আজম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মোস্তফা। এ সময় তারা গবেষণা নকশা নির্বাচন, উপযুক্ত স্যাম্পল সাইজ নির্ধারণ এবং ডাটা কালেকশনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

কর্মশালায় গবেষণা প্রোটোকল লেখার ধাপ, গবেষণার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, স্ট্যাডি ডিজাইন নির্বাচন, স্যাম্পল সাইজ হিসাব, ডাটা সংগ্রহের কৌশল এবং এথিক্যাল ইস্যুগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গবেষণায় সাধারণ ভুল ও তা এড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। এতে বিএমইউসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। 

অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, কর্মশালাটি গবেষণা কাজে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য জ্ঞান দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণায় এথিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক মান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।


আমার বার্তা/এমই