নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে ‘কিছু ধরনের সাধারণ ক্ষমা’ পেতে পারে হামাস

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহর দক্ষিণে হামাস আন্দোলনের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডসের এক ফিলিস্তিনি যোদ্ধা।

নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ‘কিছু ধরনের সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

সোমবার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা এ কথা বলেন। গাজায় আটক থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই মন্তব্য করেন তিনি। এতে গত অক্টোবরে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাদের অনেকের কাছ থেকেই নিরস্ত্রীকরণের কথা শুনছি। আমরা মনে করি তারা অস্ত্র নামাবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে তারা চুক্তি ভঙ্গ করবে। আমাদের ধারণা, নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে কিছু ধরনের সাধারণ ক্ষমা যুক্ত থাকবে। খোলাখুলি বললে, নিরস্ত্রীকরণের জন্য আমাদের খুব ভালো একটি কর্মসূচি আছে।’

আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করা হয়।

তিনি বলেন, এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে হামাসকে রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র জমা দেওয়া হামাস যোদ্ধাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি আলোচনার অংশ।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। রোজিল্যান্ড জর্ডানের ভাষ্য, এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার জন্য সামনে আসাই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি আরো বলেন, এই শর্তগুলো চূড়ান্ত হতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, তুরস্ক ও মিসর—সব পক্ষ কীভাবে হামাসের সঙ্গে সমাধানে পৌঁছাতে পারে তার ওপর। তবে ‘সাধারণ ক্ষমা’র ধারণাটি এখন প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে সোমবার ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে, গাজায় আটক থাকা শেষ বন্দি রান গিভিলির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক থাকা সবাইকে এখন নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, বন্দিদের মরদেহ ফেরত দেওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে তাদের অঙ্গীকার রক্ষার প্রমাণ। তারা দাবি করে, ‘আমরা স্পষ্ট ও দায়িত্বশীলভাবে আমাদের সব দায়বদ্ধতা পূরণ করেছি।’

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি আরো জানায়, এখন ইসরায়েলকে কোনো ধরনের কাটছাঁট বা বিলম্ব ছাড়াই চুক্তির নিজ অংশ বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং উভয় দিক থেকে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই খুলে দেওয়া, গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের অনুমতি, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পরিচালনায় জাতীয় কমিটির কাজ সহজ করার দাবি জানায় তারা।

ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সব বন্দি ফেরত আসার পর যারা অস্ত্র পরিত্যাগ করবে, সেই হামাস সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। পরিকল্পনায় গাজা ছাড়তে ইচ্ছুক হামাস সদস্যদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ আছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা ‘মুক্তভাবে’ প্রবেশ এবং মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আঙ্কারায় হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ এবং গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে রয়টার্সকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে-এর মধ্যে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ-তুরস্কের উদ্যোগের কথাও হামাস নেতাদের জানান ফিদান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


আমার বার্তা/জেএইচ