ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভীত নয়, উদ্বেগ অন্য জায়গায়: আরাগচি

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ভয় পাচ্ছে না, বরং উদ্বিগ্ন হচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে— যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধের জন্য মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যেতে ইন্ধন দিচ্ছেন।

গত কাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই, বরং আমার উদ্বেগ হলো ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সার্বিক পরিস্থিতি  যথাযথভাবে যাচাই না করা এবং ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা। এটা নিশ্চিত যে কিছু মহল, গোষ্ঠী অবশ্যই আছে— যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে চিন্তা-ভাবনা করবেন।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে সিএনএনকে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “একটি অর্থপূর্ণ আলোচনার ভিত্তি হলো আস্থা এবং দুর্ভাগ্যবশত, আমরা আলোচনার সঙ্গী কিংবা অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। তাই যে কোনো সংলাপের আগে প্রথম কাজ হলো এই আস্থার সংকট দূর করা।”

“কিছু মিত্রস্থানীয় দেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে— তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।”

“মানে আমরা চাই— যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর থেকে তার নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘নো নিউক্লিয়ার উইপন’ এবং আমরা তার সঙ্গে, তার এ আহ্বানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমরা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করব না…শুধু তার বিনিময়ে যেন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।”

“যুক্তরাষ্ট্র যদি চায়, তাহলে এমন একটা সমঝোতা হতে পারে। সেই সুযোগ এখনও ভালোভাবেই আছে।”

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরাকে হামলা করে, তাহলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সৈয়দ আরাগচি। সিএনএনকে তিনি বলেছেন, “গত বছর জুন মাসে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল— সেটি ছিল মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ছিল। পরে শেষ পর্যায়ে এতে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়। এ কারণে সেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।”

“তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা করে, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। সেই ক্ষেত্রে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।”

সূত্র : এএনআই


আমার বার্তা/জেএইচ