বাংলাদেশে চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। চীনা প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম ও মিত্র দেশগুলোর প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তাব দেবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পর্কের ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই।

সম্প্রতি চীন-ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ চীন-পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে এ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়।

তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সেই সম্পর্ক উন্নতি হবে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছে বলে মার্কিন বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

তারা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে একই সময়ে চীনও বাংলাদেশে তার কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অনেক মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে তারা নতুন সরকারের কাছ থেকে ব্যবসাবান্ধব নীতির স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করছে। বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অর্জিত অগ্রগতির ভিত্তিতে আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে চাই।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় অবদানকারী। রোহিঙ্গা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অংশীদার। তবে এই দায়িত্ব আমরা একা বহন করতে পারব না। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে, নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।


আমার বার্তা /জেএইচ