ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে পৌঁছেছে। এই চুক্তি সইয়ের জন্য পাকিস্তান সফরের বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান তাদের সেই পারমাণবিক উপাদান আমাদের ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের খুবই জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তেহরান সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য এতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০ বছরের সময়সীমার ওপরই জোর দেয়।
এরও আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান যেন স্থায়ীভাবে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করে। কারণ, এতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা ওয়াশিংটনের।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তিনি ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। তার ভাষায়, ‘ওরা আমাকে চায়, এবং ইরান প্রায় সবকিছুতেই রাজি।’
তবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি দাবি করেন, গত বছর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর লুকিয়ে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে ইরান। যদিও ইরানি নেতারা এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এদিকে, গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যায়। মূল বাধা ছিল তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ এখনো যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান যোগাযোগ করছে, তবে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, আলোচনার বিস্তারিত গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ এবং অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোই প্রতিনিধি দল নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প আরও জানান যে, ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল লেবাননে হামলা জোরদার করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
ইরান ও পাকিস্তান বলেছে, লেবানন প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির অংশ হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা মানেনি।
আমার বার্তা/এমই
