ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক নিয়ে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে এই এআই টুলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও।

এই প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্ক বলেছেন, এআই নিয়ে যে সমালোচনা চলছে তা আসলে ‘সেন্সরশিপের অজুহাত’। তার দাবি, সরকারগুলো নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ খুঁজছে। শনিবার এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এরই মধ্যে এক্সকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রোকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে এক্সকে “দায়িত্বশীল হতে হবে”। একই সঙ্গে তিনি দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “সব বিকল্প টেবিলে থাকতে হবে।”

গ্রোক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন জানায়, অপরাধীরা এই এআই টুল ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি তৈরি করছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ে।

এদিকে শনিবার ইন্দোনেশিয়া সাময়িকভাবে গ্রোক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটি প্রথম কোনো দেশ, যারা সরাসরি এই এআই চ্যাটবট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রী মেতিয়া হাফিদ বলেন, সম্মতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন।

বিতর্কের মধ্যেই এক্স গ্রোকের কিছু সেটিংসে পরিবর্তন আনে। এখন থেকে ছবি সম্পাদনার সুবিধা শুধু অর্থপ্রদত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এই পরিবর্তনকে “অপমানজনক” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এটি সমস্যার সমাধান নয়।

ইলন মাস্ক অবশ্য অনড় অবস্থানে। তিনি এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট শেয়ার করে বলেন, সরকারগুলো অন্য এআই টুলের দিকে নজর না দিয়ে শুধু গ্রোককে লক্ষ্য করছে। ওই পোস্টে বলা হয়, বহু অ্যাপ আগেই এ ধরনের ছবি তৈরি করতে পারে। মাস্ক বলেন, “এটা নতুন সমস্যা নয়। এটা নতুন একটি টুল মাত্র।”

এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি আপলোড করার মতোই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে সেই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়।

যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারী ও শিশুদের ছবি যৌনভাবে বিকৃত করা জঘন্য ও নিন্দনীয়। এক্স যদি যুক্তরাজ্যের আইন মানতে ব্যর্থ হয় তবে অফকম চাইলে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই অফকম পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবে।

অফকম জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মূল্যায়ন শুরু করেছে। এক্সের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, অফকম সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞাপনদাতা, পেমেন্ট সেবা ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। কার্যত এতে প্ল্যাটফর্মটি নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে উদ্ভাবন। অন্যদিকে অপব্যবহার। গ্রোক বিতর্ক সেই দ্বন্দ্বই সামনে আনছে।

বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো এখন প্রশ্ন তুলছে। প্রযুক্তি কতটা স্বাধীন হবে। আর নিয়ন্ত্রণই বা কোথায় প্রয়োজন। গ্রোক নিয়ে চলমান বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

আমার বার্তা/এল/এমই