রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: আসামিদের ফাঁসি দাবি করলেন রাষ্ট্রপক্ষ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৩:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করলেন রাষ্ট্রপক্ষ।

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষিরা আসামিদের সমন্ধে কী বলেছে এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন। এরপর তিনি আদালতে বলেন, সাক্ষিরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিধায় তিনি আদালতের নিকট আসামিদের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আসামিদের পক্ষে তার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

মামলার যুক্তিতর্ক শুনতে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক সাধারণ আইনজীবী ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকালেই আদালতে আনা হয়। ১১টা ২১ মিনিটে সোহেল রানাকে ও ১১টা ৪০ মিনিটে স্বপ্নাকে এজলাসে তোলা হয়। এরপর পৌনে ১২টায় বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

গত ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করেন আদালত। সাক্ষিরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, আমিও দোষ করছি ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।

তিনি আরও বলেন, আমার ছওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন।

এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, আমি কিছু করিনি স্যার আমি নির্দোষ।

দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে গতকাল এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর ভিকটিমের- মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।


আমার বার্তা /জেএইচ