চুপিসারে বেবিচকে ৪৭ পরামর্শক নিয়োগের চেষ্টা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (বেবিচক) এবার ঘুপচি (গোপন) টেন্ডারে ৪৭ জন পরামর্শক নিয়োগের আয়োজন শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নিশ্চিত করতেই অনলাইন বাদ দিয়ে অফলাইনে ঘুপচি টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত যে কোনো সেবা ক্রয় করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিআর) অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বাধ্যতামূলক। কনসালটেন্ট বা পরামর্শক নিয়োগ সেবা ক্রয়ের অংশ। কিন্তু পিপিআর অনুসরণ না করা আইনের লঙ্ঘন। গোপনে টেন্ডার করার অর্থ এখানে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকছে না।
বেবিচকের বিভিন্ন পদে ৪৭ জন পরামর্শক নিয়োগ করতে গোপনে টেন্ডারের আয়োজন করা হয়। গত বুধবার টেন্ডার বাক্স উন্মুক্ত করা হয়। বাক্স খোলার পর দরপত্র কমিটি ৪৭টি পদের জন্য ১৩০ জনের আবেদন পায়। গোপনে টেন্ডার আহ্বান করায় বেবিচকে আগে যাঁরা চাকরি করেছেন কিংবা যাঁরা শেখ হাসিনার আমলে পরামর্শক ছিলেন, তাঁরাও আবেদন করেছেন। যাঁরা বেবিচকের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট না, তাঁরা এই গোপন টেন্ডারের বিষয়টি জানতে পারেননি। ফলে আবেদনও করতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে পরামর্শক নিয়োগ করতেই গোপন টেন্ডারের আয়োজন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয় যে, বেবিচকের ভেতরের অনেক কর্মকর্তা পর্যন্ত বিষয়টি জানতেন না। এই ৪৭ পরামর্শকের গড়ে মাসিক বেতন ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। এত বেতন নির্ধারণ নিয়েও বেবিচকের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
সূত্র জানায়, বিমান মন্ত্রণালয় পিপিআর অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগ করতে বলেছিল। এমনকি বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি শাখা থেকেও পিপিআর অনুযায়ী নিয়োগ করতে প্রস্তাব করে। কিন্তু প্রশাসন শাখা থেকে রহস্যজনক কারণে পিপিআর অনুসরণ না করে নিয়োগের আয়োজন করা হয়েছে। যে কারণে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিভিল এভিয়েশনে পরামর্শকদের প্রধান কাজ সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া, বিমানবন্দর নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরি ও আপডেট করা, আইকাওর নিরাপত্তা মান মেনে বিমান চলাচল নিশ্চিত করা, এয়ারক্রাফট অপারেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো নিরাপত্তা অডিট এবং নিরাপত্তা ঘাটতি শনাক্ত করে সংশোধনে সুপারিশ করা। এ ছাড়া এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও নেভিগেশন সিস্টেম, রাডার, যোগাযোগ কাঠামোর উন্নয়ন, বিমানবন্দর অবকাঠামো ও প্রকৌশল পরিকল্পনা, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা, রেগুলেশন ও নীতিমালা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে থাকেন। পাইলট লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন খাতেও দায়িত্ব পালন করেন এসব পরামর্শক। বেবিচকে এ খাতে দক্ষ জনবল না থাকায় এবং আইকাও মানদণ্ড বজায় রাখতে এসব পরামর্শক নিয়োগ হয়ে আসছে।
এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাবলে বোর্ডের অনুমতি নিয়ে নিয়োগ দিত। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বেবিচকের এ প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে। তখন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সিভিল এভিয়েশন ওই প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপন দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এসএম লাবলুর রহমান বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে উন্মুক্ত দরপত্র করা যায়নি। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অফলাইনে অনুমতি নিয়ে পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিশেষ কাউকে সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। যোগ্য ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি। ১৩০ জন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছেন। যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, সরকারি ক্রয়পদ্ধতির মূল ধারণা হলো রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মান পাওয়া। যখন কোনো সংস্থা গোপনে বা সীমিত দরপত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষকে সুবিধা দেয়, তখন সেখানে ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ বা স্বাভাবিক ন্যায্যতার লঙ্ঘন ঘটে। ৪৭ পরামর্শদাতা নিয়োগ কোনো ছোট ঘটনা নয়। এর পেছনে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় হবে। তাই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া জরুরি ছিল। সূত্র : আমাদের সময়
আমার বার্তা/জেএইচ
