দেশ ছেড়ে পালাতে হবে এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমরা এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না, যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, জনগণের মুখোমুখি হয়ে সৎ উত্তর দেওয়ার সাহস থাকবে না। কাজেই আমরা ব্যক্তি বিবেচনার ও দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে গণভোটকে ‘হ্যাঁ’ বলবো।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনী স্কুল মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে উদ্যোগে ভোটের রিকশার অনুষ্ঠিক উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণভোট নিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারলে দেশের সংস্কার হবে। জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করবে। তিনি বলেন, আপনি যখন একটি দলের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু তাদের সব কিছুই কি পছন্দ হয়। তারপরেও তো ওই মার্কাতেই ভোট দেন। তারা ভাবে ৮০ ভাগ পছন্দ হয় এবং ২০ ভাগ হয় না। এটাও সেই রকম সব প্রস্তাবকে শারীরিকভাবে ইতিবাচক ধরে নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বলে হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপদেষ্টা পূর্বের বিচার বিভাগের নিয়ে আরও বলেন, ২০১১ সালে বিচার বিভাগের কাধে বন্ধুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেকে সংবিধান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন বিচার বিভাগের ওপর আর বন্ধুক রাখা যাবে না। যদি আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন তবে এইভাবে আর সংবিধান সংশোধন করা যাবে না।  দেশে চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। চার মিনিটে আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে। এটা তো আমরা চাই না। আমরা চাই জনগণ জানুক আমরা তাদের পক্ষ নিয়ে কি কাজ করেছি। তেমনিভাবে আমরা বলি না, প্রশাসনের অমুক সচিব আমরা লোক, তমুক সচিব তার লোক এমনটা হওয়ার কথা না। প্রশাসনে দলের লোক থাকবে কেনো?

গত নির্বাচনগুলো প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সবগুলো প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন মানুষ ভোট দেয় নাই । মানুষ কি ভাবতে পারে ১৮ বছরের নির্বাচনের কথা? এমনই এক তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা ছিলাম। তারা নিজেরাই নিজেরাইদেরকে জয়ী ঘোষণা করেছেন। সেই দিনের আমাদেরকে অবসান ঘটাতে হবে।

এই গণভোট হচ্ছে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আপনি কোনো এক রাজনৈতিক দলের মতাদর্শন বিশ্বাস করতে  পারেন। এই গণভোট হচ্ছে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। এখানে দলীয় স্বার্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখলে হবে না। আপনি জাতীয় স্বার্থে যদি ‘হ্যাঁ’ বলেন কোনো দলকে পছন্দ করেন বা না করেন।  দেশ কিন্তু জিতে যাবে দেশ জিতে গেলে আমরা সবাই জিতে যাব। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবা ফারজানা, তথ্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদসহ আরও অনেক উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই