চায়ের কাপে ভোটের খবর
নির্বাচনের উত্তাপ নেই গ্রামে, গণভোটে কী হবে জানে না অধিকাংশ মানুষ
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও গ্রামীণ চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। বাজারগুলোতে নির্বাচনি ক্যাম্প অফিস স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ স্থানে তা মাইকিংয়েই সীমাবদ্ধ।
শহরে নির্বাচনের আমেজ থাকলেও গ্রামে নির্বাচনের কোনো আমেজ নেই। প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে আসছেন না। কতজন প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন—এমনটাও সঠিকভাবে জানাতে পারেননি কেউ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশব্যাপী গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালালেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জানে না গণভোট কী। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোন ভোট দিলে কী সুফল মিলবে, তাও জানেন না অনেকে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের একটি চায়ের দোকানে আগামী নির্বাচন নিয়ে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। তারা সবাই নোয়াখালী-৫ আসনের ভোটার।
চায়ের আড্ডায় কথা হয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। তিনি জানান, গণভোট কবে হবে বা এতে কী উপকারিতা আছে—এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। নোয়াখালী-৫ আসনের কোনো প্রার্থীও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেননি।
পাশে বসে থাকা ইব্রাহিম নামের আরেক ভোটারের সঙ্গে কথা হলে তিনিও জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দিলে কী পরিবর্তন হবে, তা তিনি জানেন না।
ইব্রাহিম বলেন, এবার পোস্টার না থাকায় তেমন নির্বাচনি আমেজ নেই। মাঝেমধ্যে মাইকিং হলেও চোখে পড়ার মতো কিছু নেই। সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যার আড্ডায় নির্বাচনের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
ইব্রাহিম বলেন, ‘এখনো কোনো প্রার্থী আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেননি। যদি আসে, তারা কী করতে চায় তা শুনে আমরা আমাদের চাওয়াগুলো তুলে ধরবো।’
তবে চায়ের আড্ডায় আব্দুর রহমান নামের ষাটোর্ধ্ব একজন রাজনৈতিক সচেতন ভোটারের দেখা মেলে। তিনি ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যম থেকে গণভোট সম্পর্কে জেনেছেন এবং আশপাশের মানুষকে বিষয়টি বোঝাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, বিগত সময়ের নির্বাচন সুষ্ঠু না হলেও এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সে কারণে এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ভোট দেবেন বলে মনস্থির করেছেন।
তবে ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে নির্বাচনী প্রচারণা বাড়বে। নির্বাচনের উত্তাপ প্রতিটি শহর-গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা এবং সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৫ আসন। এই আসনে সবচেয়ে বেশি ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নাছের (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির খাজা তানভীর আহমেদ (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তৌহিদুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মুন তাহার বেগম (কাঁচি), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মোহাম্মদ আনিছুল হক (হাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা (চেয়ার), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী (তারা) ও জনতার দলের শওকত হোসেন (কলম)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ ইউনুছ ফুটবল ও ওমর আলী মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আমার বার্তা/জেএইচ
