ভুয়া তথ্য ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে হাই-পাওয়ার কমিটি: আইসিটি সচিব
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ভুয়া তথ্য, গুজব ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে সরকারের একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা, সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মহাসচিব মনিরুল ইসলামসহ আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আইসিটি সচিব বলেন, শুনে খুশি হবেন, মিসইনফরমেশন ও ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় মাল্টিপল ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সির সমন্বয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে এবং একই সঙ্গে আমাদের ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্টচেক করা হয়। যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি (এনসিএস) কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে যায়।
শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, বর্তমান সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এনসিএস দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। বিটিআরসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করলে তারা তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। অনেক সময় বানান বা উপস্থাপনা কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবুও গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের প্রায় ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে অগ্রগতি হয়েছে। গতকাল যেসব কনটেন্ট নজরে এসেছে, সেগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। আশা করছি আজ থেকেই সেগুলো আর দেখা যাবে না, বলেন তিনি।
এ ছাড়া ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি)-এরও ডেডিকেটেড ২৪ ঘণ্টার টিম রয়েছে উল্লেখ করে আইসিটি সচিব বলেন, আমাদের রিপোর্টের বাইরেও এসব সংস্থা আরও বহু কনটেন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই একই কনটেন্ট একাধিক সংস্থা থেকে রিপোর্ট হওয়ায় বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন, হেট স্পিচ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কনটেন্ট যেন সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে।
আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএমসি) চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে।
আমার বার্তা/জেএইচ
