বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে: আলী রীয়াজ

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ৩০টি  রাজনৈতিক দলের সাথে দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনা করার পরেও গণভোট প্রয়োজন কেন? কারণ সবাই রাজনৈতিক দল না, এর বাহিরেও অনেক মানুষ রয়েছে। এই সুযোগ এতো হেলায় কাটানো যাবে না, অনেক সংগ্রামের পর আমরা এই যায়গায় এসেছি। এবার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ে তোলার।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায়  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত গণেভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আগামী ৭দিনে কি করা দরকার আমি আজকে এটাই বলবো। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই দেড় লাখ শিক্ষার্থী যদি ৫ জন করেও গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায় তাহলে এটি খুব একটা দুরূহ কাজ নয়। যারা বলছেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কি করা যাবে তাদের সাথে আমি একমত। আপনারাও উদ্যোগ নেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ হতে উদ্যোগ নেনম জনগণকে বুঝান যে গণভোটের পক্ষে যেন থাকে। 

তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচার শুরু করি। আজকে এখানে যারা উপস্থিত আছেন সবার উদ্দেশ্যে বলি গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কি পরিমাণ অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছে তা আমরা জানি। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তার সবচেয়ে বড় কারণ শেখ হাসিনা চায়নি আপনি-আমি ভোট দেই। এ কারণেই জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে পরবর্তী কোনো নির্বাচন করা হলে ক্ষমতাসীন সরকার ও দুই বিরোধী সরকার একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

আলী রীয়াজ বলেন, আজকের এই দিনে এসেও পিএসসি স্বাধীন না। হালের গরু বিক্রি করে একজন বাবা কষ্ট করে তার সন্তানকে পড়াশোনা করায় কিন্তু ছাত্রলীগের কারণে তার সরকারি চাকরির মুখ আর দেখা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিরোধী সরকার দমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। যেটা করার দরকার অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘ ৯ মাস সময় নিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বাকিটা আপনারা, জনগণের ইচ্ছায় আগামীর সরকার হবে। সংবিধানটাকে ছেলেখেলা বানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায় এর সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ হলো তরুণরা জুলাইতে মাঠে নেমে এসেছে। যদি আমি আপনি এই জুলাই শহীদদের কোনো দায় অনুভব করি তাহলে গণভোট নিয়ে সবাইকে জানান। 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই