কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মোতায়েন
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে যুক্ত করা হয়েছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি।
ভোটকে একদিকে গণতান্ত্রিক উৎসব হিসেবে দেখা হলেও অতীত অভিজ্ঞতায় সংঘাত, সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের ঘটনাও সামনে এসেছে। দেশের ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিতে পুরোপুরি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত, বাকি আটটিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
এবার ভোটার সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম ঠেকাতে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবে পাঁচ শতাধিক ড্রোন।
নির্বাচন ঘিরে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা মিলিয়ে মাঠে থাকবেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, একটি নির্বাচন সুরক্ষিত রাখতে সব সশস্ত্র বাহিনীকে একযোগে মাঠে নামানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবনার সুযোগ রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ সেনা সদস্যের পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনীও প্রস্তুত থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধু বাহিনী মোতায়েনই নয়, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতি থেকে এত বড় একটি নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো থাকলেও আরও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসও। সবশেষে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।
আমার বার্তা/এমই
