টিউলিপকে ফেরাতে যুক্তরাজ্যের কাছে দাবি জানাবে বিএনপি সরকার
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শপথ নেওয়ার আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে বিএনপি। ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। এবার তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই টিউলিপসহ সেখানে অবস্থানরত ‘দণ্ডিত অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক তালিকা ও আবেদন জমা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর নতুন সরকারের এই কূটনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তাঁরা (হাসিনা ও টিউলিপ) দুজনেই এখন বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত অপরাধী। আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে তাদের অনুসরণ করছে এবং আমরা এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পিছু হটব না।’
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকার একটি জমি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে আদালত চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। যদিও টিউলিপ এই বিচারকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ এবং ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হুমায়ুন কবীর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে অপরাধীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি “বিব্রতকর বিষয়”। আমরা আশা করি, ব্রিটিশ সরকার সেসব আওয়ামী লীগ “সন্ত্রাসী” ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে যারা লন্ডনে বসে অর্থ পাচার ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা খুব শিগগিরই এমন অপরাধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত চাই। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আমরা চাই যুক্তরাজ্য সরকার এই অপরাধীদের চিহ্নিত করুক।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে হুমায়ুন কবীর এই সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘যদি আমরা অবৈধ অভিবাসন রোধে যুক্তরাজ্যের একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে পারি, তবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য কেন ভিন্ন আচরণ করবে? দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থেই অপরাধীদের ফেরত দেওয়া উচিত।’
তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) কর্তৃক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ ও প্রায় ৩০০টি প্রোপার্টি জব্দের উদাহরণ টেনে এটিকে স্বাগত জানান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটি কেবল শুরু, অর্থ পাচারকারীদের নির্মূল করতে আরও অনেক কাজ করার বাকি আছে।’
টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দল ব্রিটিশ লেবার পার্টিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলায় ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের বিস্তারিত তাঁকে জানানো হয়নি। তাই আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিই না।’ টিউলিপের দাবি, বাংলাদেশের ‘নোংরা রাজনীতি’ তাঁকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। অনেকে ধারণা করছেন, এর পরপরই ঢাকা-লন্ডন সম্পর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াবে টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। হুমায়ুন কবীরের এই কূটনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, নতুন সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আওয়ামী লীগের প্রভাব রুখতে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে পারে। এটি ব্রিটেনে বিশেষ করে এপস্টেইন ফাইল নিয়ে চাপের মুখে থাকা কিয়ার স্টারমার সরকারের জন্যও একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
আমার বার্তা/এমই
