আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে ৪৭ দেশের পূর্ণ সমর্থন
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৩তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ৪৭টি রাষ্ট্র। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি বিশ্ব সংস্থাটি এই সংহতি প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় আইএলও সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষ আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।
অধিবেশনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে (কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮) আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল।
ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ বছর ধরে আইএলও’র প্রবল চাপে ছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রম খাতের সংস্কারে অভাবনীয় অগ্রগতি হওয়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা আইএলও’র ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি কাজ করছে। এ ছাড়া ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে শ্রম অধিকার নিশ্চিতে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অধিবেশনে ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ এবং ৬ সদস্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্রুপসহ মোট ১৯টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রম খাতের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে। সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানায়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতির প্রশংসা করলেও রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জেনিভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আলিমুর রহমান এবং মাদার অব হিউম্যানিটি মুস্তাফিজুর রহমান।
আমার বার্তা/এমই
