বিগত সরকারগুলো ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারগুলো ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে। তাদের (বিগত সরকারের) ব্যর্থতার কারণে হাম পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ভীত হয়ে পড়েছিল।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা এলাকায় লিটল অ্যাঞ্জেলস সেমিনারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ফান্ডের দুর্বলতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে সকালে তিনি একই স্থানে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যে সেখানে ৮৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ১২ এপ্রিল থেকে দেশের চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা রেখে যায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও নির্দেশনায় এই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ওষুধ দিয়ে মানুষকে সুস্থ করা সম্ভব নয়, সচেতনতা জরুরি। তার মতে, সবচেয়ে কার্যকর ‘ওষুধ’ হলো মায়ের দুধ, যা বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

এ সময় তিনি সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুর অনুরোধে আগামী বাজেটে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েলি এব্রিউ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নারওয়েলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার মোট ৭টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং ১ হাজার ৫৬টি অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো জেলায় (সিটি করপোরেশনসহ) মোট ৩,৩৭,৪৩৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন বাদে জেলায় এই সংখ্যা ২,৫৯,৪৩৫ জন শিশু।