জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান কার্যক্রম, এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দফতর ও সংস্থার প্রধানসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

এ সময় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার, প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের এ্যাপেক্স বডি হিসেবে এনএসডিএর কার্যক্রমকে আরো জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত দক্ষতা সংশ্লিষ্ট সব কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, অ্যাসেসমেন্ট ও সনদায়ন কার্যক্রম এনএসডিএ আইন ও বিধিমালা অনুসরণে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় উল্লেখ করা হয় দক্ষতা সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এনএসডিএ এবং কারিগরি শিক্ষার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিটিইবি। তাই এনএসডিএ আইন ও বিধিমালার সাথে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) আইনে দক্ষতা সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান দ্বৈততা ও অস্পষ্টতা দূরীকরণের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) আইন সংশোধনের বিষয়ে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ড ও কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে এর আগে প্রদত্ত নির্দেশনাসমুহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে পুনঃনির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন নিশ্চিত করে দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষার কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার ওপর জোর দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দেশভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি (এমআরএ) সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়ন নিশ্চিতের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরো সময়োপযোগী করতে কোর্স সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত সনদ প্রদান নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত ও আচরণগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব এবং জেলা পর্যায়ে ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সনদায়নের লক্ষ্যে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

দেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিল্পখাতের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

এছাড়া, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং মান নিয়ন্ত্রণে এনএসডিএর ভূমিকা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনলাইন ও সশরীরে (হাইব্রিড) প্রশিক্ষণ চালু এবং অ্যাসেসমেন্ট টুলস ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে কার্যনির্বাহী কমিটি ও গভর্নিং বোর্ডের সভা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। সভায় দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এনএসডিএর নেতৃত্বে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


আমার বার্তা/এমই