কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু ডিএমপির
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ নয়টি অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডের ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব অ্যাপ ও সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার।
সফটওয়্যারগুলো হলো- এআই নির্ভর রোড ট্রান্সপোর্ট এন্ড ভায়োলেশন ডিটেকশন সিস্টেম, হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম, হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ, ডিএমপি অনলাইন ট্রেনিং সিস্টেম, ডিএমপি রেসিডেন্স অ্যালোকেশন সিস্টেম, ডিএমপি লিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিএমপি ট্রাফিক ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন সফটওয়্যার, ডিএমপি এমপ্লয়ি পারফর্মেন্স ইভ্যালুয়েশন সফটওয়্যার এবং ডিএমপি ট্রাফিক নিউজ আর্কাইভ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ট্রাফিক সার্জেন্টরা রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী চালকদের কাগজপত্র তল্লাশি করে মামলা দায়ের, জরিমানা আদায় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা সময় সাপেক্ষ ও অনেকসময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের উচ্চ প্রবণতা এবং সেই তুলনায় ট্রাফিক পুলিশে জনবল কম হওয়ায় পুলিশের পক্ষে এই পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে কাজে লাগানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে ঢাকার ২৫টি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। এ সকল মোড়ে উন্নতমানের ক্যামেরা স্থাপন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মনিটর করা হচ্ছে। এআই বেজড রোড ট্রান্সপোর্ট এক্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন সিসটেম ব্যবহার করে এসকল মোড়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ সংক্রান্ত অপরাধ শনাক্ত করে আইন প্রয়োগ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ডিএমপির থানাসমূহ তাদের দায়িত্বাধীন এলাকার আবাসিক হোটেলগুলো থেকে প্রতিদিনের অতিথি তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। প্রথাগত রেজিস্টার পদ্ধতির ফলে শতভাগ হোটেলের তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সমন্বিত অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এই অনলাইন প্লাটফর্ম। ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থানকারী দেশি ও বিদেশি অতিথিদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে ঢাকায় আগত ও হোটেলে অবস্থানরত সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীর যাতায়াতের বিষয়ে তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, হুমকি চিহ্নিত ও পর্যবেক্ষণ করা এবং নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করা সহজতর হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষের তাদের হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের বিষয়ে জবাবদিহিতা বাড়বে।
হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ সম্পর্কে বলা হয়, অ্যাপের মাধ্যমে একজন নাগরিক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সেবা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন এবং ডিএমপির কোনো সেবার বিষয়ে তার অভিযোগ থাকলে তা জানাতে পারবেন। অ্যাপে ডিএমপি ও পুলিশের অন্যান্য সংস্থার অনলাইন সেবার তথ্য ও লিংক থাকবে, যার মাধ্যম নাগরিকগণ সহজে সে সকল সেবা গ্রহন করতে পারবেন। পুলিশি সেবার বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ফোকাল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হবে এবং ভুক্তভোগী সেবা পেয়েছেন কিনা তা ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে নিয়মিত মনিটর করে নিশ্চিত করা হবে। নাগরিকদের জন্য পুলিশের সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। পুলিশের সেবা প্রদান বেগবান হবে। অন্যদিকে, ডিএমপি ট্রাফিক নিউজ আর্কাইভ থেকে ট্রাফিকের বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ পাওয়া যাবে।
এছাড়া ডিএমপি অনলাইন ট্রেনিং সিস্টেম, ডিএমপি রেসিডেন্স অ্যালোকেশন সিস্টেম, ডিএমপি লিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিএমপি ট্রাফিক ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন সফটওয়্যার এবং ডিএমপি এমপ্লয়ি পারফর্মেন্স ইভ্যালুয়েশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিএমপির সদস্যদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সমস্যার হবে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আমার বার্তা/এমই
