এলজিইডির নিলাম নিয়ে অহেতুক বিতর্ক, কর্মকর্তাদের হয়রানি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু বাতিলকৃত সরঞ্জাম নিলামে বিক্রি নিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেল উল্টো চিত্র। অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বিবাদমান দুটি গ্রুপ স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম ছড়াতে উঠেপরে লেগেছে। তাদের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে নিলাম প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অথচ, নিলামের কাগজপত্র ঘেঁটে স্পষ্ট হওয়া গেছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল না। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলাম ডাকা, আগ্রহীদের প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা, সবই হয়েছে নিয়ম মাফিক।
সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে, এলজিইডি সদর দপ্তরের রক্ষণা-বেক্ষণ শাখার তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিলামের তালিকায় ছিল ৪৭টি পণ্য। এর মধ্যে বাতিল হওয়া লিফটের যন্ত্রাংশসহ অকেজো ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য এবং কাঠের আসবাবপত্র ছিল। বেশ কয়েকজন আগ্রহী ক্রেতার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় নিলাম। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিলাম জিতে নেন আজান এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান। একাধিক চালানের মাধ্যমে নিলামের আনুমানিক ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩১৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। নিলামের জন্য গঠিত কমিটির হাত ধরে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কাজগুলো সস্পন্ন হলেও প্রক্রিয়াটিকে বিতর্কিত করতে দাপ্তরিক কুচক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সংবাদকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়েও বিভ্রান্ত করছে।
নিলাম কমিটির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সদর দপ্তর থেকে কমিটি করে দিয়েছে, আমরা শুধু নিলাম বাস্তবায়ন করেছি। এই নিলাম স্বচ্ছতার সঙ্গেই হয়েছে। এতে করে সরকার লাভবান হয়েছে। অথচ, কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিতর্কিত করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কুচক্রি মহলের ভুয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর দপ্তর থেকে নিলাম কমিটিকে শোকজও করা হয়। আমাদের শোকজের জবাবে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, পরিত্যক্ত মালামাল নিলামে বিক্রি নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসে। তবে, তদন্ত করে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়া যায়নি। অকারণে হয়রানির শিকার হয়ে রক্ষণা-বেক্ষণ শাখা থেকে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় চলেও গেছেন।
আমার বার্তা/এমই
