রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা যায়নি: সালেহউদ্দিন

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও পর্যাপ্ত ক্ষমতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ওই সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তবে দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার শুধু ‘খারাপ’ কাজ করেনি, বরং অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ শিক্ষার্থীকে সমাবর্তন দেওয়া হয়।

সমাবর্তন বক্তা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। এসব কারণে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।’

সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’

ব্যাংক খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে।

সালেহউদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরও অনেক শিল্প এখনো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।