ফের সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ঠুঁটো জগন্নাথ হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন: টিআইবি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১২:০৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’র খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির অভিযোগ, নতুন এই খসড়া আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার এই খসড়া আইনের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশে গুম-খুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ করার এখতিয়ার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় ২০০৯ সালের আইনের বিতর্কিত ১৮ ধারা হুবহু ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ফলে বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনকে এখন সরকার বা সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে গুম-খুনের অধিকাংশ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিধান বহাল থাকলে তা কার্যত তাদের সুরক্ষাকবচ হিসেবেই কাজ করবে।
খসড়া আইনের ১৩ ধারার সমালোচনা করে টিআইবি জানায়, নতুন আইনে কমিশনকে স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য গোপন আটকস্থল বা বন্দিশালা পরিদর্শনের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত কর্তৃত্ববাদী সময়ে গুম-নির্যাতনের যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেশবাসী ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যেতে হয়েছে, তা থেকে তারা কোনো শিক্ষা নিয়েছেন বলে মনে হয় না।
কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি।
বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কমিশনের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অধ্যাদেশে থাকা ‘কমিশন সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হবে না’, এই গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি খসড়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একদিকে কমিশনকে স্বাধীন বলা হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদানকারী ভাষ্যই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলছে, নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক করার পরিবর্তে খসড়ায় ‘যোগ্য প্রার্থী প্রাপ্তি সাপেক্ষে’ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এতে কমিশন একটি পুরুষতান্ত্রিক ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কমিশনের ৩০ শতাংশ জনবল প্রেষণে (ডেপুটেশন) নিয়োগ এবং সরকারি কর্মচারীদের ছুটি নিয়ে কমিশনার হওয়ার সুযোগ রাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি।
সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্বাচনী ইশতেহার ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে খসড়া আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করতে হবে। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
