খামারিদের স্বার্থে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই: টুকু
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশীয় খামারিদের স্বার্থে অন্য কোনো জায়গা থেকে বা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শনিবার (২৩ মে) সকালে গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছি কুরবানির জন্য দেশে এক কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু রয়েছে। আমাদের চাহিদা প্রায় এক কোটি এক লাখ। অর্থাৎ প্রায় ২২ লাখ গবাদিপশু থাকবে। অন্য কোনো জায়গা থেকে বা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, আমাদের খামারিরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই ব্যাপারে সবার খেয়াল রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির জন্য আমাদের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা সারা বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন ও মায়া দিয়ে গবাদিপশু লালন-পালন করেন। অনেকে আবার নিজস্ব উদ্যোগেও বাড়িতে পশু প্রস্তুত করেন, যা তারা কোরবানির হাটে বিক্রি করবেন। সেই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং তারা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য আমরা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সশরীরে এখানে উপস্থিত রয়েছি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের একটি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। যদি কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয় বা রোগ থাকে, সেগুলোকে তাৎক্ষণিক ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছি, আজ প্রথম হাট শুরু হওয়ার পর তারা গবাদিপশুকে ট্রিটমেন্ট দিয়েছে। কারো জ্বর হয়েছে, থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর পরিমাপ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কুরবানির বিষয়ে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কুরবানি দেই আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য। সেটি সহিভাবে হওয়া জরুরি। আমি আলেম নই, বিশেষজ্ঞও নই, মুফতিও নই। তারপরও যতটুকু বুঝি, হালালভাবে কুরবানি হওয়া উচিত। তাই ক্রেতাদেরও সচেতন থাকতে হবে। মাঝে মধ্যে আমার প্রশ্ন জাগে, চোরাই পথে আসা গরু আদৌ কুরবানি দেওয়া সঠিক হবে কিনা। এটা মুফতিরা ভালো বলতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকে বলছি, এ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকায় নির্দেশনা দিয়েছি, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু না আসতে পারে। কারণ আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কোন এলাকায় কী পরিমাণ মানুষ বসবাস করে, সেই অনুযায়ী হাটের সংখ্যাও নির্ধারণ করেছি। জনসংখ্যার ভিত্তিতে হাট পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও বেশি বা কম পশু আছে কিনা, সেগুলোর খোঁজখবর আমরা রাখছি। যাতে ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক থাকে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।
গাবতলী হাটে ভারতীয় গরু থাকার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি, আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছি। যাতে আমাদের খামারিরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেন। তারা যেন আশা নিয়ে হাটে এসে বিক্রি করতে পারেন, ক্রেতারাও যেন খুশি মনে কিনতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে চাই।
টুকু বলেন, আমাদের পণ্য আমরাই কিনব, এটাই স্বাভাবিক। মানুষকে সচেতন করতে হবে, যেন দেশীয় পণ্য কেনার মানসিকতা তৈরি হয়। তাহলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে হাট শুরু হলো। আমরা হাট পরিদর্শন করছি। সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করছি। কোথাও অনিয়ম থাকলে সেগুলো দূর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যাতে সঠিকভাবে হাট পরিচালিত হয় এবং সবাই উপকৃত হয়।
জাল টাকা প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিনও রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কেউ প্রতারিত না হয়।
