২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বজলুর রশদী (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬) নামের দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি মাদারগঞ্জে নিহতদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। তারপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বজলুর রশীদ ও সাড়ে ৫টার দিকে মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা দুইজন একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তবে তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। গত মাসের ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারপর বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দীর্ষ ২৬ দিন পর শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিহতদের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

নিহত বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব জানি না।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।


আমার বার্তা /জেএইচ