প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের গোলযোগ সৃষ্টির শক্তি নেই: ড. মাহবুব

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৭:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এখন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে একত্রিত হয়ে গোলযোগ সৃষ্টির মতো সাংগঠনিক শক্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর এফডিসিতে ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। 

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

তবে আগামী ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তারা একত্রিত হয়ে কোনো ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারবে-এমন শক্তি এখন তাদের নেই।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে যে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করা হয়েছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিও অবমাননাকর। এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।

মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে অপপ্রচার ও উস্কানি অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষ অত্যন্ত নোংরা ও অরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। গুজব ও অপপ্রচার রোধে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। অন্যথায় পরাজিত শক্তিগুলো পুনরুত্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তে থাকা ডিজিটাল আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ আসক্তি তরুণ প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী মুহূর্তের মধ্যে বানোয়াট তথ্য, মিথ্যা সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। ধর্মীয় ও জাতিগত অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন পোস্টের মাধ্যমে দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কিরণ আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিকৃত তথ্য, সম্পাদিত ছবি ও ভুয়া প্রচারণা ছড়িয়ে রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গণপিটুনি, ভাঙচুর, রক্তপাত ও প্রাণহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে মানুষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এর শিকার হচ্ছেন।

ডিজিটাল আসক্তিকে মাদকাসক্তির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এ প্রবণতা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ বিষয়ক ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাছুদুর রহমান, সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান এবং সাংবাদিক জাফর ইকবাল।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র বিতরণ করা হয়।


আমার বার্তা/এমই