ইলিশের উৎপাদন ও আকার দুটোই কমছে, সাগরে নজরদারির তাগিদ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সোমবার রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী কর্মশালা।

ইলিশের মোট উৎপাদন এবং এর গড় আকার—দুটোই আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৭১ হাজার টন হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন বা আকৃতিও আগের চেয়ে ছোট হয়ে আসছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত) ’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপ্তি উপলক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ। তিনি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ লাখ টনে।

মূল প্রবন্ধে ইলিশের এই উৎপাদন হ্রাসের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. দেশের নদীগুলোতে ক্রমাগত নাব্যতা সংকট ও পলি জমা হওয়া; ২. নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের অতিমাত্রায় ব্যবহার; ৩. মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব।

প্রকল্প পরিচালক সতর্ক করে বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদনকে টেকসই ও স্থিতিশীল রাখতে হলে এখন অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পাশাপাশি সাগরে ইলিশ আহরণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দেশের অর্থনীতিতে ইলিশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১১ শতাংশই আসে ইলিশ থেকে। আর আমাদের জিডিপিতে ইলিশের একক অবদান প্রায় ১ শতাংশ।’

মন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ ইলিশ আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে সাগরে অতিরিক্ত মাছ ধরার (ওভার ফিশিং) বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাগরের মৎস্য সম্পদের তুলনায় আমাদের জেলের সংখ্যা অনেক বেশি। সমুদ্র ও নদীতে অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং জাটকা নিধন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় দরিদ্র জেলেদের জীবনধারণের সংকটের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আবদুছ ছালাম।


আমার বার্তা/এমই