২২ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর, কোথা থেকে শুরু?
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে উত্তরবঙ্গ সফরের ঘোষণা দিলেও সফরের একদিন আগে শুক্রবার রাতে তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে।
ওই সফর স্থগিতের পরদিনই শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমিয় সভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
সভায় বক্তব্যে তারেক রহমান জানান, আগামী ২২ তারিখ থেকে তিনি তার পরিকল্পনা নিয়ে সারাদেশের মানুষের কাছে যাবেন।
নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের সভা সমাবেশ বা ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে উত্তরের জেলা বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরও তারেক রহমানের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। যদিও সেখানে কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ঘোষণা ছিল না। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল- ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সফরটি হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। আর প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু করতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জানা গেছে, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফরের ঘোষণার পর এটি নিয়ে জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগও জানিয়েছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান দেশ গঠনে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করবে। অবশ্যই আমরা ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না।
এছাড়াও বেকারত্ব দূরীকরণ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যে সব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে তার নানা দিক নিয়েও খোলামেলা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
প্রায় দেড়যুগ পর গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। এর পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে, আমি সাভারে গিয়েছিলাম, আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে’।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি দেশের মানুষের কাছেও তার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবে আমরা ২২ তারিখ থেকে সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো’।
১১ তারিখ থেকে নিজ জেলা বগুড়া থেকে সফর শুরু কথা থাকলেও ২২ জানুয়ারি থেকে কোন জায়গা দিয়ে তিনি এই সফর শুরু করবেন তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
তবে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে তারেক রহমানের সফর শুরু হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রচারণা ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ দেশের বেশিরভাগ দলই সব সময়ই সিলেটে শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এ হিসেবে তারেক রহমানও তার নির্বাচনী প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকালের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে; এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা’।
বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটু আগে আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম, সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে চার কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি, এভারেজে একটি পরিবারে পাঁচ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে। আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডটি আপনাদের সামনে তুরে ধরতে চাইছি। আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের একটি অংশ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী’।
তিনি জানান, চার কোটি পরিবারের মধ্যে কার্ডটি দেওয়া হবে। তবে সবগুলো পরিবারের মধ্যে একবারে নয়। ধীরে ধীরে দেওয়া হবে। সেটি যেমন হত দরিদ্ররা পাবে। প্রয়োজন হলে সেটি ডিসি-এসপির স্ত্রীরাও পাবেন।
কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলথ ইস্যু। বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ। আমরা স্লোগান দিয়ে হয়তো বলতে পারি যে, সকলের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করব, আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেব’।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বেশ কিছু বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। সেই সাথে আগামী দিনের রাজনীতির চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের যে কোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে। আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে। সেটা জাতীয় পর্যায় হোক, কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচন কিংবা ব্যবসায়ীদের নির্বাচন হোক’।
সভায় তিনি বলেন, "আমি কাউকে আঘাত করতে চাইছি না। কাউকে আঘাত না করেই বলছি আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য দেশের নারীদের অধিকার, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, সব কিছু মিলিয়ে যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য’।
আমার বার্তা/জেএইচ
