স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান সম্পাদকদের
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ক্ষমতায় গেলে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা কী, তা তুলে ধরেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধানরা। তারা বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে গণমাধ্যমে গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও গণমাধ্যমের প্রধানরা এ বিষয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
এদিন তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে আসনে আসনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন এবং কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্র সাংবাদিকদের কাছে গিয়েও তাদের সঙ্গে হাত মেলান তিনি।
মঞ্চে ওঠার সময় তারেক রহমান দেখেন লালফিতা দিয়ে একটা বেষ্টনী বসানো হয়েছে। তারেক রহমান এই বেষ্টনী সরিয়ে নিতে বললে তা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা কেউ কেউ তারেক রহমানকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি মাইক নিয়ে বলেন, আমার নামের আগে মাননীয় বলবেন না।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান অত্যন্ত আগ্র্রহের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা শোনেন এবং নিজে নোটও করেন। তার পাশে বসা ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনায় শুভকামনা’
অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি একদিনের জন্য বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছুদিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারবো।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী আরও বলেন, আপনি আসতে পেরেছেন। স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন, পরিকল্পনা আছে আপনার। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।
‘তারেক রহমান কত জনপ্রিয় উনি জানেন না’
এদিন সবাইকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়ে দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, আমার বয়স ৯১। বলতে পারেন আমি কিছু হাসিনা-রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এই কারণে বয়স ৯১ তো… অনেক কিছু কথা মনে পড়ে যায়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত আমি সেটা বলবো না।
তিনি বলেন, আমি শুধু জনাব তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি কী? সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন নো দাই সেলফ। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে আমি বুঝতে পারি এই ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম এই বাক্যটি নো দাই সেলফ- এত বড় মূল্যবান কথার অর্থ কী? জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার। তার জানাজায় অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল তখন। আর তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া। তার যখন মহাপ্রয়াণ হলো তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।
দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক আরও বলেন, তারেক জানেন না তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম তখন জেলবন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো। সবচেয়ে বড় কথা- পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করতো, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করতো উনি কেমন? আমি বলতাম- উনি তো লন্ডনে, বহু দূরে আছেন। আর আমি আপনাদের এখানে আছি। এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে। এখন দেখছি তারেক রহমান সময় মেইনটেইন করছেন। আমি লক্ষ্য করছি, তার ওপর কিছু বিলাতি প্রভাব পড়েছে। আমি বলবো, তিনি একজন পরিবর্তিত মানুষ হয়ে গেছেন। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাৎ বঞ্চিত করা, সুচিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিক রেহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট বন্ধ করা, বাজারে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলার বিষয়টি তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে নজর রাখবেন এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
‘আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই’
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বিএনপি চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, আপনি চেয়ারম্যান হলেন। আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং সর্বস্তরের সাফল্য কামনা করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী? আমি মনে করি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ। এটা নিয়ে আমরা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অত আলোচনা করছি না। ক্লাইমেট চেঞ্জের যে কী ইমপ্যাক্ট হবে এটা অলরেডি আমরা কিন্তু কোস্টাল বেল্টে দেখতে পাচ্ছি। সো, আমার অনুরোধ থাকবে, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইজ ইয়োর ভেরি ইম্পর্টেন্ট প্রায়রিটি।
মাহফুজ আনাম আরও বলেন, আরেকটা হচ্ছে আমাদের পানিসম্পদ। আমরা পৃথিবীর অন্যতম সম্পদশীল দেশ পানির ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা সব নদীকে দূষিত করছি। ইট ইজ কোয়াইট ইনক্রেডিবল যে, আমরা কীভাবে নদীদূষণের দিকে যাচ্ছি এবং কিছুই করছি না। আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার এখন প্রায় ৮০/৯০ এর নিচে চলে গেছে … উই হ্যাভ টু অ্যাড্রেস ইট।
মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম ২৩ বছর আগে। প্রথম ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। আমি এখন দেখি ২৩ বছর বাদে তারেক রহমান বদলে গেছেন, আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে। অনেকে এটা বিশ্বাস করেন না। আমি কাছের থেকে জানি দেখি শুনেছি।
মতিউর রহমান বলেন, আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন তবে, অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি, মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটা সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয় তখন কিন্তু আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে, আমরা জাহান্নামে আছি নাকি বেহেশতে আছি। কষ্ট হয় গণতন্ত্রের কথা বলি আমরা। আমার মনে হয় তারেক রহমান সাহেব যে বদলে গেছেন, বলছি এই কারণে তিনি দেখে এসেছেন, পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কীভাবে মিডিয়া চলে। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা আছে। এক ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দলের মধ্য থেকেই যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের পথেই কিন্তু ভুল হবে এবং সেই ভুল থেকে আমরা অনেকে আবার এমন একটা অবস্থায় চলে যাবো যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে। আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে সেই সংকট থেকে, যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।
১৭ বছরে মিডিয়ার ইতিহাস
দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের মরহুম গাজী ভাই (রুহুল আমিন গাজী), ভুয়া মামলায় ক্যানসার আক্রান্ত গাজী ভাইকে জেলখানায় রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) মতো। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজ যারা এখানে বসে আছেন তারা কেউ গাজী ভাইয়ের জন্য টু-শব্দও উচ্চারণ করেন নাই। এটাই বাস্তবতা। আসাদ ভাই (আবুল আসাদ) আমাদের মধ্যে প্রবীণতম সম্পাদক। তাকে ছাত্রলীগের গুন্ডারা অফিসে ঢুকে দাড়ি ধরে নামিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে এবং বছরের পর বছর তিনি জেলে থেকেছেন। তিনিও অসুস্থ। তার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেন নাই। কারণ জেল থেকে বেরোনোর পরও তাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। আসাদ ভাইয়ের জন্যে কোনো সম্পাদক আওয়াজ তোলেন নাই। এটাই বাস্তবতা।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, আমি নাম বলবো শফিক রেহমান ভাইয়ের। আমরা পাশাপাশি সেলে জেলে ছিলাম। ৮০ বছর বয়সে শফিক ভাইকে মাটিতে শুয়ে থাকতে হয়েছে। টয়লেটে যেতে পারতেন না। কারণ ওই টয়লেটে কমোড ছিল না বেশ কিছুদিন। শীতের মধ্যে মাটিতে পড়ে থাকতে হয়েছে, উনি উঠতে পারেন নাই। তারপরে যখন আমার পাশের রুমে আসলেন ওনাকে ধরে ধরে আমরা ব্রেকফাস্ট করতে, দুপুরে একসঙ্গে খেতে যেতাম। শফিক রেহমানের জন্য কেউ আপনারা দাঁড়ান নাই- এটাই ছিল ফ্যাসিবাদের চরিত্র। আরেকজনের নাম বলি, কনক সরোয়ার। তার অপরাধ ছিল তিনি আজকের যিনি আজকে প্রধান ব্যক্তি তারেক রহমান সাহেবের একটা বক্তৃতা তিনি লাইভ চালিয়েছিলেন। এই অপরাধে তাকে প্রায় এক বছর জেলে থাকতে হয়েছে। শুধু তাই না, তার বোনকে ড্রাগের ভুয়া মামলায় মাসের পর মাস জেলে থাকতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বিবেক জাগ্রত হয় নাই। এটাই বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাস।
তিনি বলেন, আমি জনাব তারেক রহমানকে একটা ছোট্ট পরামর্শ দিয়েই বক্তব্য শেষ করবো। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন- এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল। এইজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। জনাব তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না, এখানে কী হয়েছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে এটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে সেটাই আপনি শুনছেন এবং সেটাই আপনি মনে করছেন। এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করবো ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং সেই অনুষ্ঠানে আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেন।
‘সাংবাদিকতার পরিবেশ চাই’
নিউএজের সম্পাদক ও এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সমাজ এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে মানুষকে বলে যে, তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর চায়… তাহলে একই সঙ্গে তার দায় দাঁড়ায় সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করবার জন্যই গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কী কী পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার আবহাওয়া নষ্ট হয় সেগুলো আলোচনার জন্য তো সেমিনার করা যেতে পারে। শুধু এইটুকু শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখবো, যে আপনারা যেন সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অতীতে বহু সংবাদকর্মীর ওপর নানাভাবে মামলা-হামলা, অন্যায় হয়েছে। সেসব মামলা আইনগতভাবে লড়াই করার পরিবেশটা উপস্থিত ছিল না। আমি বলবো, এই মুহূর্তে গত রেজিমের সঙ্গে যারা সমর্থক ছিলেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, জেলে আছেন। শেখ হাসিনার আমলের ওইগুলো যদি অন্যায় হয়ে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও যদি আইনগতভাবে তাদের মামলা লড়ার সুযোগ না দেওয়া যদি অন্যায় হয়ে থাকে সেই অন্যায়কে আরেকটা ন্যায় দিয়ে আরও প্রতিষ্ঠিত দেখাতে পারি।
নূরুল কবীর বলেন, এই সময়ে যারা জেলের মধ্যে আছেন, তাদের যা আইনসঙ্গত অধিকার আছে, অভিযুক্ত হিসেবেই যে আইনসঙ্গত অধিকার আছে সেগুলো নিশ্চিত করার জন্যে সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে আমাদের এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সময় সরকারকে বলেছি। সরকার বলেছে তারা সেটা দেখবে। কিন্তু তাদের আইনগত অধিকারগুলো নিশ্চিত করার কথা দিয়ে তারা রাখেননি। আমি আপনাকে (তারেক রহমান) এই জন্য শুভেচ্ছা জানাবার চেষ্টা করবো যে, আপনার যতটুকু প্রভাব এই মুহূর্তে আছে সেই প্রভাব কাটিয়ে যদি বিগত সরকারের আমলের যে অন্যায়গুলো হয়েছে সে অন্যায়ের রিপিটেশন যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি তাহলে রাষ্ট্রের তরফ থেকে সংবাদপত্র এবং মিডিয়াকর্মীদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ কোনটা তার উদাহরণ আমরা তৈরি করতে পারবো না। ফলে এই ব্যাপারে যদি আপনার কোনো প্রভাব থাকে আপনি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে এটার ব্যবস্থা করতে পারার তৌফিক আপনার হোক সেই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, আমরা দেখেছি যে গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া, আমরা দেখেছি যে, একটা রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রেও গোয়েন্দাদের ডিক্টেশন আমাদের বাধ্য হয়ে হজম করতে হয়েছে। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।
হাসান হাফিজ আরও বলেন, আমি তখন ছাত্র ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ছিলাম দৈনিক বাংলার। সেই দৈনিক বাংলা প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেটা সরকারি পত্রিকা ছিল না। ট্রাস্টের পত্রিকা ছিল। যেটা সরকারি বিজ্ঞাপনে চলতো, রাজস্ব বাজেটে চলতো না। আমরা দৈনিক বাংলাকে ফেরত চাই, আগের অবস্থায় দৈনিক বাংলা চাই।
তিনি বলেন, আজ এখানে আপনি মিলিত হয়েছেন। এটা ভালো। ঘন ঘন ইন্টার-অ্যাকশন হলে আপনারা উপকৃত হবেন, আমরাও উপকৃত হবো। আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। সবাই আমরা দেশপ্রেমিক, সবাই আমরা দেশের ভালো চাই। আমাদের উদ্দেশ্যে সাংঘর্ষিক নয়, আমরা পরিপূরক, আমরা ওয়াচডগ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আপনাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে চাই।
অনুষ্ঠানে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, দেশ রূপান্তরের রেজাউল করীম লাভলু, শাহনাজ বেগম পলি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের মারুফা রহমান, ইউএনবির আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, ইত্তেফাকের সাইদুর রহমান, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আমার বার্তা/জেএইচ
