তারেক রহমানের নিরাপত্তায় বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন ছিদ্র না থাকে: রিজভী
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা জোরদার করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ফাঁক যেন না থাকে। তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র। বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন কোনো ছিদ্র না থাকে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর লালমাটিয়ায় মহিলা কলেজের পাশে ‘আমরা বিএনপির পরিবার’-এর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা বারবার বলেছি—চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।’
জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারকে দেওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান মহোদয় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সব সময়ই বলেছেন—‘‘ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’’’
রিজভী বলেন, একটি বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের জন্য তাঁরা যেভাবে জীবন উৎসর্গ করেছেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহিমান্বিত আত্মদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই বিএনপি যেমন অতীতে তাঁদের পাশে ছিল, তেমনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাঁদের সামগ্রিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চির ধরছে কি না। শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলতে হয়—সামথিং ইজ রোটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক—এই ধরনের কোনো পচনের গন্ধ আমরা অনুভব করছি।’ তিনি বলেন, ‘যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চির ধরবে। আমি এখনো বলতে চাই—নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে, যাতে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, নিঃসংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে—এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’
রিজভী আরও বলেন, ‘একটি দল নির্বাচনে যাবে না—এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সেটি তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে জনগণ নিশ্চিত হতে পারে যে—নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং কোনো ধরনের সূক্ষ্ম বা বড় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হবে না।’
এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন এবং সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
