কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আর দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ একটা পরিবর্তান চায় এবং ১৩ তারিখ থেকে মানুষ পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছে। ১৩ তারিখ যে পরিবর্তনটা আসবে এটি আসবে যুব সমাজের ওপর ভর করে। আমাদের মায়েদের নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করে। গোটা দেশের ইজ্জতের ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানবো না, কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর দেশের মানুষ, আলেম ওলামা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের যারা ছিলেন, সিভিল সোসাইটির সদস্য, সাংবাদিক বন্ধু, এক কথায় দেশবাসী মজলুম ছিলেন, আমরাও মজুলুম ছিলাম। আমরা আশা করছি এখনো যারা মজুলুম, তাদের পক্ষে এই বাংলাদেশ থাকবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, একটা কথা পরিষ্কার করতে বলতে চাই আমরা দলীয় কোনো শাসন এ দেশে দেখতে চাচ্ছি না, জামায়াতের বিজয় চাচ্ছি না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাচ্ছি। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে আমাদের ১১ দলের সবার বিজয়।

আপনারা যদি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ওপর আস্থা রাখেন, আপনাদের পবিত্র ভোটের মাধ্যমে তাকে যদি বেছে নেন মন্ত্রিপরিষদে একজন সিনিয়র সদস্য এই চৌদ্দগ্রামবাসী পাবে, ইনশাআল্লাহ। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের। চৌদ্দগ্রামবাসী এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কিনা এটা চৌদ্দগ্রাম বাসীর সিদ্ধান্ত।

অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ৫ তারিখের পর আপনারা দেখেছেন কার কী কর্মকাণ্ড, কার কী চরিত্র। আগেরটা রাখলাম, অতীতের খাতায়, বর্তমান বিবেচনায় নিলে দেশের মানুষের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে না। যারা আমার সম্পদেও হাত দেয়, যারা আমার জীবনেও হাত দেয়, যারা নিজেদের জীবনকেও শেষ করে দেয় এবং যারা আমাদের মায়েদের ইজ্জতে হাত দেয়, আমার মায়ের পেটে লাথি মারে, আমার মায়ের কাপড় খুলে নেয়ার হুঙ্কার দেয় তাদের হাতে দেশের ৯ কোটি মা কি নিরাপদ?

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজিসহ যত দুর্নীতি আছে, এগুলার গোড়া কেটে দিতে চাই। এতে কারও ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই। এই অপকর্ম ছেড়ে দেন, জাতীকে আর কষ্ট দিয়েন না। এক সময় আপনারাও মজলুম ছিলেন, কেন এখন জালিম হতে গেলেন? আমরা আশা করবো সংসধন হবেন।

জুলাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে যুবসমাজ বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করেছিল তারা কি বেকার ভাতার জন্য যুদ্ধ করেছিল? তারা তাদের অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিল। এই জন্যই তো আবু সাইদ রাস্তায় নেমে বলেছিল হয় আমার অধিকার দে, না হয় একটা গুলি দে। সে ডানা মেলে বলেছিল বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুকের পেতেছি গুলি কর। অধিকারের জন্য গুলি খেয়েছে। জীবন উপহার দিয়ে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে। আমরা সেই জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা লড়াই করে মজলুম হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে এবং নির্যাতিত হয়েছেন আমরা করো অবদানকে অস্বীকার করতে চাই না।

কওমি মাদরাসা বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন তাহলে কওমি মাদরাসার নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কওমি মাদরাসার উৎকর্ষ সাধনের জন্য যা কিছু করা দরকার তা করতে বদ্ধ পরিকর।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আবদুল হালিম, শিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা-১০ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন সহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই