জাইমা রহমানকে সামনে এনে কী বার্তা দিচ্ছে বিএনপি
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এখন বিএনপিতে বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন। দলটির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।
পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন জাইমা রহমান। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে। তার এমন উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাইমা রহমানকে সামনে আনার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত এবং তরুণ ও নারী ভোটারদের কাছে আলাদা বার্তা পৌঁছাতে চাইছে।
আবার অনেকের ধারণা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কৌশলগতভাবেই জাইমা রহমানকে সামনে আনছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের রাজনৈতিকভাবে আকৃষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের কথাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
যদিও এবারের জাতীয় নির্বাচনি রাজনীতিতে তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে কিছু কর্মসূচিতে দেখা গেলেও জাইমা রহমান এখনো সরাসরি কোনো নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেননি।
জাইমা রহমান সম্পর্কে যা জানা যায়
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হওয়া সত্ত্বেও জাইমা রহমান সম্পর্কে দীর্ঘদিন খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকলেও বিএনপি বা পরিবারের পক্ষ থেকে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে আগে তেমন কিছু জানানো হয়নি।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবনের শুরু ঢাকার বারিধারার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরবর্তীতে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন।
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। প্রায় ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফেরেন।
দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা
আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে কোনো পদ না থাকলেও গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে ইউরোপভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন জাইমা রহমান। ওই সভার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া চলতি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে অংশ নেন তিনি। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়।
ঢাকায় ফেরার পর ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন’ শীর্ষক একটি আলোচনায় প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন জাইমা রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি বিএনপি আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এবং ২৭ জানুয়ারি একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
জাইমা রহমানকে সামনে আনার বিষয়টি নিয়ে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উপমহাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্ব নতুন কিছু নয়। বিএনপির সমর্থকদের একটি বড় অংশ এই পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত। সে কারণেই জাইমা রহমানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে- এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে জনমনে।
আমার বার্তা/এমই
