নারীদের পেছনে রেখে দেশ এগোতে পারে না: তারেক রহমান
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করে। কৃষকের সঙ্গে কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করে। শুধু মাঠেই নয়, সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা।
তারেক রহমান বলেন, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারে না। ইসলামের ইতিহাসে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশ এগোতে পারে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে নতুন এক ধরনের জালিমের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ আবার জনগণের হাতে ফিরে আসে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ আবার জনগণের হাতে ফিরে এসেছে।
বরিশালবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। তাই এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, জুন-জুলাই আন্দোলনে যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একমাত্র প্রত্যাশা ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের ১১ কোটি ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারী সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও গার্মেন্টসখাত পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি নারীদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ একটি গোষ্ঠীর নেতা সম্প্রতি নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন এক ধরনের জালিমের আবির্ভাব হয়েছে। নতুন এই জালিম, যাদের মানুষ গুপ্ত সংগঠন হিসেবে চেনে, তাদের নেতা বাংলাদেশের নারীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে খাটো করে দেখাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, আজ সময় হয়েছে দেশ গড়ার। দেশ গড়তে হলে প্রত্যেক নারীকে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই গুপ্ত সংগঠনের এক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন-নির্বাচনের আগে জনগণের পা ধরতে হবে এবং নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এ ধরনের বক্তব্য তাদের মানসিকতা স্পষ্ট করে।
তিনি বলেন, যারা জনগণকে অবজ্ঞা করে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে।
বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নদীভাঙন এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কবরস্থান, মসজিদ ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন জরুরি। পাশাপাশি বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন এবং ভোলা মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম জোরদারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।
তিনি জানান, নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের পর পাঁচ বছর জনগণের সেবা করতে হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর অনেক সময় পার হলেও বরিশালের উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও উন্নত করতে হবে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন, যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে এই এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করে নানা উন্নয়নকাজে হাত দেন। কিন্তু গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারের আমলে অনেক কাজ জমে গেছে, যা এখন করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান বিএনপি তখনই করতে পারবে, যখন ধানের শীষে ভোট দিয়ে দলকে জয়যুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনগণ এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতা তাদের অনুসারীদের বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে, এরপর জনগণ নাকি তাদের পা ধরবে। কিন্তু আমরা বলি, ১৩ তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকব। কারণ জনগণ সঙ্গে না থাকলে কী হয়, তা ৫ তারিখে আমরা দেখেছি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়া জনগণের দলের সঙ্গে আছি।
তিনি বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা সৎ শাসন সম্ভব নয়। ১২ তারিখ আমরা নির্বাচিত হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ বহু কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত এক যুগ ধরে আমরা মিথ্যা উন্নয়ন দেখেছি, মিথ্যা আশ্বাস শুনেছি। অনেক কাজ পড়ে আছে, যা এখন বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমার বার্তা/এমই
