শৈশবে টাকা চুরি ও পরিশোধের নিয়ম

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আবিদ রহমান

শৈশব মানুষের জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যখন নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে। এ সময়ে অপরিণত বোধ, কৌতূহল কিংবা অসচেতনতার কারণে অনেক শিশু অন্যের টাকা বা সম্পদ অনুমতি ছাড়া নিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু শৈশবে সংঘটিত এমন ভুলের জন্য অনুশোচনা করা এবং পরবর্তী সময়ে সেই টাকা যথাযথভাবে পরিশোধ করার উদ্যোগ নেওয়া সততা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচায়ক। ইসলামে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই শৈশবে কারও টাকা নিয়ে থাকলে, বড় হওয়ার পর বিষয়টি স্মরণ করে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা উপযুক্ত উপায়ে পরিশোধ করার চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তরিক তওবা, অনুশোচনা এবং যথাসম্ভব ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে মানুষের হক আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। সুতরাং, শৈশবে টাকা চুরি করে পরবর্তীকালে তা পরিশোধের বিষয়টি ইসলামের নৈতিক শিক্ষা, তওবা এবং বান্দার হক আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শৈশবে নিজের অজান্তেই অনেকে অনেক ভুল করেন। ভুল কাজটি করার সময় বুঝতে পারেন না ভুল বা অন্যায় কিছু করছেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর বুঝতে পারেন, অনেক ক্ষেত্রে অনুশোচনায় ভোগেন এবং সেই ভুল থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজেন। শৈশবে অবচেতনে মানুষ যেসব ভুল করে তার মধ্যে রয়েছে—নিজের বাবা বা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তার পকেট থেকে টাকা নেওয়া বা কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে তার বাগান থেকে কোনো ফল  খাওয়া— এ জাতীয় বিভিন্ন ভুল করে থাকেন অনেকে। কেউ এমন কোনো ভুল করে ফেললে এবং পরবর্তীতে অনুশোচনায় ভুগলে পরিত্রাণের উপায় কী? 

একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমার বয়স যখন ১২-১৩ এর নিচে তখন আমি আমার বাড়ির এক মুরুব্বির কাছ থেকে টাকা চুরি করেছি। এখন বুঝতে পেরেছি কাজটা অন্যায় হয়েছে। আমি তাকে এইভাবে বলেছি যে, ‘আপনি আমার কাছে কিছু টাকা পাওনা রয়েছেন, তবে আমি সঠিক বিষয়টা জানি না; কত টাকা হতে পারে।’ অনুমান করে কিছু টাকা দিয়ে দিয়েছি তাকে।  আমি এখন পুরোপুরি দায়মুক্ত হব কিনা?’ 

আলেমদের মতে, যেহেতু আপনি এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন, অনুতপ্ত হয়েছেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—এটি তওবার গুরুত্বপূর্ণ আলামত। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

চুরির গুনাহ থেকে মুক্ত হতে সাধারণত তিনটি বিষয় জরুরি। তাহলো—১. আন্তরিকভাবে তাওবা করা। ২. ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। ৩.  যার হক নষ্ট হয়েছে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া।

আপনি যেহেতু সরাসরি ঘটনা প্রকাশ না করে কৌশলে তাকে কিছু টাকা দিয়েছেন এবং ধারণামতো পাওনা আদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাই যদি আপনার প্রবল ধারণা হয় যে প্রায় সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি টাকা পৌঁছে গেছে, তাহলে আশা করা যায় আপনি দায়মুক্ত হয়ে গেছেন ইনশাআল্লাহ।

তবে যদি এখনো মনে সন্দেহ থাকে যে কম দেওয়া হয়েছে, তাহলে আরও কিছু টাকা গোপনে বা উপহার কিংবা সহায়তার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া উত্তম। এতে অন্তরও প্রশান্ত হবে।

ঘটনাটি যেহেতু ১২-১৩ বছরের নিচে অল্প বয়সে ঘটেছে তাই শরয়ী দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় রয়েছে। কারণ পূর্ণ বালেগ হওয়ার আগের গুনাহ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো লিখা হয় না। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৯৮)

তবুও মানুষের হক আদায়ের গুরুত্ব রয়েছে। আপনি যেহেতু তা আদায়ের চেষ্টা করেছেন, এটি ভালো লক্ষণ। তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে ইস্তিগফার করুন, নেক আমল বাড়িয়ে দিন এবং ভবিষ্যতে মানুষের হক সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকুন।