ভেজাল ওষুধে সয়লাব মিটফোর্ড পাইকারী বাজার
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোস্তফা সারোয়ার

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পাইকারি ওষুধ বাজার মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপনে উৎপাদন এবং তা দেশব্যাপী সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘদিনের । একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে । অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন ঔষধের দোকানের আড়ালে চলছে এই চক্রের রমরমা ব্যবসা। চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রহিম ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) বেপারী ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস (আমির মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) রনি ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) শাহিদা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা)
রিপন ড্রাগ হাউস (ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) সহ আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দিচ্ছে মোহাম্মদ দিদার নামে জনৈক ব্যক্তি । বছর দুই আগেও তিনি ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ চাকরি করতেন। বর্তমানে একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। সিন্ডিকেট সদস্য তালিকায় রয়েছে সাদিক, সৈকতসহ আরও অনেকেই । স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে এই চক্রটি প্রতিষ্ঠিত কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে, অন্যদিকে সেসব জনপ্রিয় (চালু) পণ্যগুলো আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে ছাড়ছেন। এসকল অবৈধ পন্যগুলো উৎপাদিত হচেছ গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানাতে। সেখান থেকেই অত্যান্ত সুকৌশলে গোপনে উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশাল গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদ থাকার কথাও জানা গেছে।
সেখান থেকেও ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে তা সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বিভিন্ন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পাশাপাশি প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসা । এই ব্যবসা বন্ধ করতে ইতিপুর্বে একাধিক দোকানে অভিযান চালানো হয় তবে বরাবরের মতো মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসা পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
