সংসদে হেডফোন কেলেঙ্কারি, ৫ কোটি টাকার সাউন্ড সিষ্টেম অচল

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  মোস্তফা সারোয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিব্রতকর এক ঘটনা ঘটে গেল । প্রায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়  কেনা নতুন সাউন্ড সিস্টেম হঠাৎ করেই অচল হয়ে পড়াতে  সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে যায়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য সরবরাহ করা হেডফোনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মির আহমেদ বিন কাশেম (ব্যারিস্টার আরমান)।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি কালো রঙের হেডফোনের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন—

“সংসদে দেওয়া হেডফোনের মান এতটাই খারাপ যে ব্যবহার করতে গিয়ে কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা ধরেছে। সাউন্ড কোয়ালিটিও অত্যন্ত নিম্নমানের। পুরোনো ডিভাইসগুলোও সম্ভবত এর চেয়ে পরিষ্কার অডিও দিত।” 

হঠাৎ অচল পুরো সাউন্ড সিস্টেম  

 নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্যের শুরুতেই সংসদের মূল সাউন্ড সিস্টেমে হঠাৎ করেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মাইকে কথা বললেও তা ঠিকভাবে শোনা যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে শেষ পর্যন্ত হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দিতে হয়। এ সময় তিনি অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। পরে বিরতির পর অধিবেশন আবার শুরু হলেও কিছু সময় পর্যন্ত শব্দ বিভ্রাট অব্যাহত ছিল। জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন প্রযুক্তিগত বিপর্যয়কে অনেকেই “রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার লজ্জাজনক ব্যর্থতা” হিসেবে দেখছেন।

সংসদের মতো উচ্চ নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ১০–১২ দিন নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পরই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।  কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে  প্রশ্ন উঠেছে। সাউন্ড সিস্টেমটি সরবরাহ করেছে আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির  ভূমিকা নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে।

পাঁচ প্রকৌশলীর গাফিলতি  

সংসদ ভবনের বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে  থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ প্রকৌশলী  হলেন— অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশ্রাফুল হক,  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফুর রহমান এবং  উপসহকারী প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম।

অভিযোগ উঠেছে, অযোগ্যতা, তদারকির ঘাটতি এবং অবহেলার কারণেই সংসদের নতুন সাউন্ড সিস্টেম কার্যত প্রথম দিনেই ভেঙে পড়েছে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—এই একই আশ্রাফুল হক ২০১৮ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকাকালেও অধিবেশন চলাকালে ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে— বারবার একই ধরনের বিপর্যয়ের পরও কেন এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এদিকে সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে একাধিক  বিতর্ক।  সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক মাস ছয়েক পরে অবসরে চলে যাবে। কিন্তু এই অবসরের দ্বারপ্রান্তে তিনি  কারিগরি প্রশিক্ষণের নামে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এতে আরও  অংশ নিচ্ছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজমুল আলমসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। এই প্রশিক্ষণের বিষয় HVAC সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ, যা মূলত মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রশিক্ষণে যাচ্ছে  প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রকৌশলী, প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন কর্মকর্তাদের অনেকেই৷

আমার বার্তা /জেএইচ