র্নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন
উত্তপ্ত রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোস্তফা সারোয়ার

ফের উত্তপ্ত হতে চলছে রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ড । গতকাল নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৫২)। তিনি হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা কে এম ফকরুদ্দিনের ছেলে।
মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদৎ হোসেন গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, পিবিআই নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে।
এদিকে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হলো অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলামের সম্বন্ধি। তবে সম্প্রতি আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ে দুজনের মধ্যেই শীতল যুদ্ধ চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে ।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গুলিবিদ্ধ টিটনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি গনমাধ্যমকে আরো জানান ২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার ২ নম্বর আসামি টিটন। তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সম্ভবত ১৩ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্ত হন। পালায়ে ছিলেন। আমরা কিন্তু খোঁজার চেষ্টা করছি, কিন্তু পাইনি।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনোভাবে আজ এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করছি, সন্ত্রাসীদের অর্থাৎ আন্ডারওয়ার্ল্ডের কেউ না কেউ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখনো আমরা ডিটেক্ট করতে পারিনি।
গতকাল রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন টিটন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান বলেন, দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ওই যুবককে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। তখন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। সেসময় আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান। তিনি বলেন, হামলাকারী দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রতন হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই যুবক হেঁটে বটতলা এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের গেটের কাছে একটি মোটরসাইকেলে দুইজন অপেক্ষা করছিলেন। ওই যুবক আসতেই একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারী এগিয়ে গিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি করে। সেসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরে মোটরসাইকেলে তারা পালিয়ে যায়।
