বাঘাবাড়ি ডিপোতে সক্রিয়  "তেলচোর  সাদেকীন সিন্ডিকেট" নেপথ্যে জি এম এইচ আর মাসুদুল 

একের পর এক বিতর্কে যমুনা অয়েল  -- পর্ব ২

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১৩:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  মোস্তফা সারোয়ার

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের( বিপিসি) বিধি  মোতাবেক যমুনা অয়েলের কোন কর্মকর্তা, কর্মচারীর একই স্থানে তিন বছরের অধিক চাকরী করা সুযোগ নেই৷ অথচ বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো : সাদেকীনের সিন্ডিকেটের সকল সদস্যেরা পাচঁ বছর থেকে শুরু করে একই ডিপোতে ২৯ বছর ধরে চাকরী করার নজীর রয়েছে । এদিকে প্রতিষ্ঠানটির বদলীর বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে আছেন মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো: মাসুদুল ইসলাম। অবশ্য এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগের শেষ নাই। মানব সম্পদ বিভাগের  এই কর্মকর্তা এবং সিবিএ নেতাদের  ম্যানেজ করেই একই ডিপোতে বিপিসির নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না  করে  বছরকে বছর চাকরি করে তেল চুরির মহোউৎসব চালিয়ে যাওয়াটা অনেকটা রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। শুধু বাঘাবাড়ি ডিপোতেই নয়, যমুনা অয়েলের সব কটি ডিপোতে রয়েছে তেল চোর সিন্ডিকেট।  ৫ মে অনলাইন ভার্সনে এবং ৬ মে এই প্রিন্টিংয়ে  "তেল চোর সিন্ডিকেট প্রধান" ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকীনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে আমার বার্তায় একটু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে  । এতেও টনক নড়েনি বিপিসি এবং যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ উঠেছে  যমুনা অয়েলের যে সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অনিয়মের খবর বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম হয়ে আসে , তখনই বাড়তি টাকা উপার্জনের সক্ষমতা বেড়ে যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের । এসকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবেনা কিংবা  তদন্ত কমিটি হবেনা, আবার যদিও তদন্ত কমিটি হয়, সেই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখবেনা, এই শর্তে হাতিয়ে নেয় প্রচুর টাকা ।  অবশ্য এরকম নজীর প্রতিষ্ঠানটিতে অহরহ । বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকীন সিন্ডিকেট থেকে বিপিসি এবং যমুনা অয়েলের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্বে মাসিক মোটা অংকের টাকার নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জানা গেছে এই ডিপোতে মুল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছে ডিপো ইনচার্জ সাদেকীন ছাড়াও  সিবিএ নেতা অরুন চৌধুরী, এসিষ্ট্যান্ট ম্যানেজার মাহবুল আলম, অপারেটর জাকির হোসেন ও হাফিজুর রহমান। তাদের সদস্য হয়ে কাজ করছে আর নুন্যতম দশ নিরাপত্তা প্রহরী।অবশ্য  এই সিন্ডিকেটের সকল সদস্যদের বিরুদ্বে বিপিসি তদন্ত কমিটিও করেছিল৷ ২০২৩ সালের ২৩ মে তৎকালীন বিপিসির চেয়ারম্যান এ কে এম আজাদের নির্দেশে সেই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছিল  বিপিসি তৎকালীন জিএম মার্কেটিং মুস্তফা কুদরুতি ইলাহিকে ৷ পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির প্রধান  যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এমডির দায়িত্বও পালন করেছে দীর্ঘ দিন । কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও সেই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি৷  মুলত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই  ডিপোতে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করেছে সাদেকীন সিন্ডিকেট। 

 মাহবুল আলম কেরানি থেকে এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার অতপর কোটি টাকার মালিক 

ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকীনের মতো তিনিও ২০২১ সালের মে মাস থেকে এই ডিপোতে কর্মরত। বিপিসির বিধান মতো তিন বছরের মাথায় বদলী হওয়ার কথা কিন্তু পাঁচ হতে চলছে বদলীর কোনো খবর নেই । সিবিএ নেতা অরুন চৌধুরী ও মাহবুল আলমের বাড়ী রাউজানের চট্টগ্রামে। একই এলাকায়তে বাড়ি হওয়াতে তাদের জুটিও দীর্ঘ দিনের। বলা চলে বাঘাবাড়ি ডিপোতে সবচেয়ে পাওয়ার ফুল এই দুজন। 

মাহবুব  আলমের চাকরি জীবন শুরু কেরানি পদে, কিন্তু বাড়ি চট্টগ্রাম হওয়ায় অল্প সময়েই নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বনে যান সেলস অফিসার ( উল্লেখ্য যে যমুনা অয়েলে কর্মরত বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার  লোকজন প্রতিষ্ঠানটিতে অনেক পাওয়ারফুল হিসেবে স্বীকৃত)।  একে নিজে ছিলেন সিবিএ নেতা পাশাপাশি বর্তমান সিবিএ নেতাদের আস্থাশীল হওয়ায় খুব সহজেই সেলস বিভাগ থেকে ডিপো অপারেশনে আসার সৌভাগ্য হয়েছে ।খুলনায় কর্মরত থাকাকালীন বহু পেট্রোল পাম্প মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করে দেয়নি, এরকম অভিযোগও রয়েছে । এছাড়া  দুর্নীতির অভিযোগে এই মাহবুল আলমকে একবার গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ প্রশাসন। তৎকালীন খুলনা বিভাগের এজিএম ( সেলস)মধ্যস্থতায় বিষয়টি ফয়সালা করা হয়। 
একাধিক সুত্রে জানা গেছে বাঘাবাড়িতে যোগদানের পর কয়েক মাস পর্যন্ত গন পরিবহনে তিনি চট্টগ্রাম যাতায়াত করেছে, কিন্তু বর্তমানে বাঘাবাড়ি হতে ঢাকায় যাতায়াত করে ভাড়াকৃত প্রাইভেট কারে। এদিকে আবার ঢাকা হতে হতে চট্টগ্রামে যাতায়াত করে বিমানে। নিজের প্রাইভেট কার রেখেছেন চট্টগ্রামে এবং স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য আছে আলাদা প্রাইভেট কার যাহার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ - ৩৭ -০১৭৯। চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিন দক্ষিন খুলশী আবাসিক এলাকায় " টাচ মাসুমাস মিরর " নামে সাততলা বিলাশ বহুল বাড়িটিতে রয়েছে তার একটি ফ্ল্যাট।   যার ঠিকানা লেন -১ ব্লক - সি রোড নাম্বার -১ । অভিযোগ রয়েছে মাহবুল আলম বাঘাবাড়িতে যোগদানের মাসেক খানিকের মধ্যে চাকরি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেসার্স নিপু এন্টারপ্রাইজ ট্যাংকলরীর ড্রাইভার আলাউদ্দিন। যমুনা অয়েলে চাকরি দেয়ার নাম করে তার কাছ থেকে চব্বিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে টাকা ফেরত দিতে তিনি বাধ্য হয়েছিল। বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মাহবুল আলম আমার বার্তাকে বলেন, বিপিসির বিধান মতো এই ডিপো হতে বদলী হওয়ার সময় তার অনেক আগেই পার হয়ে গেছে,। তিনি দাবি করেন  কর্তৃপক্ষ তাকে বদলী করছেনা ৷ তবে আবুল ফজল মো: সালেকীন, অরুণ চৌধুরীর সাথে সিন্ডিকেট করে তেল চুরির সাথে সম্পৃক্ততার  বিষয়টি  তিনি অস্বীকার করেন । খুলশীতে ফ্ল্যাটের মালিকানা সম্পর্কে আমার বার্তাকে বলেন,  সেটির মালিক তিনি নয়,  তার স্ত্রী , তাও ব্যাংক লোনের মাধ্যমে সেটা কেনা হয়েছে।  কিন্তু লোনের টাকা কিভাবে পরিশোধ হচ্ছে, সেই বিষয়টি তিনি বারবার এড়িয়ে যায়। 

বাঘাবাড়ি  ডিপোতে অরুন চৌধুরীর ২৯ এবং জাকির হোসেনের চাকরির বয়স ১৩ বছর 

 সিবিএ নেতা অরুণ চৌধুরী, মাহবুব আলম  এবং গেজার জাকির হোসেনের কাছে বাঘাবাড়ি ডিপোর কার্যক্রম দীর্ঘ বছর ধরে অনেকটা জিম্মি হয়ে আছে। তাদের কথার বাইরে কিছুই হয়না এই ডিপোতে।  ১৯৯৭ সাল থেকে এখানে চাকরি করে আসছে সিবিএ নেতা অরুণ চৌধুরী। তার চাকরিতে যোগদান ক্যাজুয়েল শ্রমিক হিসাবে ( নো ওয়ার্ক নো পে)। বর্তমান পদবি ইলেক্ট্রিশিয়ান। দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও বদলী হতে হয়নি তাকে । অর্থাৎ চাকরি জীবনে তার কোন বদলী নেই।  এতেই বুজা যায় প্রতিষ্ঠানটি কত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি এই অরুণ চৌধুরী।  আর জাকির হোসেন চাকরি করছে ১৩ বছর ধরে। অবশ্য তেল চুরির দায়ে জাকিরকে নামকাওয়াস্তে এক বার চট্রগ্রাম টার্মিনাল অফিসে বদলী করা হলেও বছর খানিকের মাথায় অরুণ চৌধুরী তাকে ফের বদলী করে আনে বাঘাবাড়ি ডিপোতে। 

জাকির হোসেনের  চাকরীতে যোগদান সিকিউরিটি পদে , কিন্ত সিবিএ নেতা অরুণ চৌধুরীর একান্ত লোক হওয়ায় সুবাধে পদ পরিবর্তন করে হয়ে গেছে অপারেটর। অবশ্য এই পদে তাকে আসতে সিবিএ নেতা অরুণের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি  বরখাস্ত কৃত অপর সিবিএ নেতা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ  মুহাম্মদ এয়াকুবকে দিতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। মজার বিষয়  অপারেটর হলও এই জাকির দীর্ঘ দশ বছর ধরে তেল মাপার দায়িত্বে পালন করছে ( গেজার পদে) ।   সাদেকিন,  মাহাবুল আলম ও অরুন চৌধুরীর আর্শীবাদে চেল চুরি চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছে জাকির হোসেন । ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল বাঘাবাড়ি ডিপোর পদ্মা অয়েলের ডিজেলের ট্যাংক হতে যমুনা অয়েলের গেজার জাকির হোসেনের নির্দেশে তেল চুরির সময় হাতে নাতে ধরা পড়েছিল সিবিএ নেতা অরুণ চৌধুরীর শ্যালক সেলিম মন্ডল এবং তাদের  সিন্ডিকেট সদস্য  বাবু মিয়া, তাজুল ইসলাম, আনিস, হাসান, মেহেদী।  সকলেই এরা বাঘাবাড়ি ডিপোর নিরাপত্তা প্রহরী এবং সাদেকীন, মাহবুল ও অরুন চৌধুরী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। বিষয়টি তৎকালীন সময়ে বিপিসির চেয়ারম্যানকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল।  তবে সাদেকীন সিন্ডিকেট বিপিসি কর্মকর্তাদের সাথে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সে যাত্রায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছিল । তেল চুরির টাকায় এই চক্রটি মালিক  মালিক হয়েছে কোটি কোটি টাকার । তেল চুরির মহানায়ক জাকিরের নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়াতে। সেখানে কিনেছে অগাধ সম্পত্তি ।  বছর খানেক আগে তিনি ১৫ শতক জমি ক্রয় করেছেন,  যার বাজার মুল্য আনুমানিক প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা। এদিকে  জাকিরের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভূয়া ঠিকানা ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। যার  নং (8524912147292), জানা গেছে এটা জাকিরের সত্যিকারের পরিচয়পত্র নাম্বার নয় । ক্রয়কৃত জমিটি হলো মৌজা: পিরোজপুর। জমির পরিমান-১৪.৮১ শতক। জে.এল.নং বি.এস-৮।খতিয়ান নং-এস.এ-১০৫/৮৪, বি.আর.এস নং-১৪১ এবং ২৮৩। খারিজ খতিয়ান নং-৩০৭ এবং ৩৯৯। দাগ নং যথাক্রমে - এস.এ-৩০৬,৩০৭,৩০৮, ৩০৯। এছাড়া আরো জানা গেছে সম্প্রতি এই প্লটের পাশেই একটা টিন শেড বিল্ডিংসহ  ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে, সেখানে  মাস্টার  সেন্টার নামক একটা কোচিং সেন্টার আছে ।যার বাজার মুল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার উপরে। এছাড়া নামে বেনামে কিনেছে আরও সম্পত্তি। এদিকে মাহবুব আলম ফোন রিসিভ করলেও ফোন ধরেননি সিন্ডিকেট প্রধান আবুল ফজল মো: সাদেকীন, সিবিএ নেতা অরুণ চৌধুরী ও জাকির হোসেন । 

ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলামের চেম্বার দখল 

 " যমুনা অয়েলে একক আধিপাত্য : পাচঁ পদে মাসুদুল ইসলাম, নতুন এমডি চাপে "শিরোনামে দৈনিক আমার বার্তায় ১৯ এপ্রিল অনলাইন ভার্সন এবং ২০ এপ্রিল প্রিন্টিংয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে  যমুনা অয়েলে কোম্পানি লিমিটেডের  সুপার পাওয়ার মাসুদুল ইসলামের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিশদ খতিয়ান। তবে অদ্যবধি  মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে  কোন তদন্ত কমিটি করেনি বিপিসি কিংবা যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিষ্ঠানটির নবাগত  ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ইউসুফ হোসেন ভুইয়া নামে মাত্র একটা বদলীর আদেশ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন । ২৩ এপ্রিল শুধু মহাব্যবস্থাপক মার্কেটিং পদ থেকে তাকে  প্রত্যাহার করা নিয়েছে।  অবশ্য এই পদ থেকে প্রত্যাহারের ফলে  তিনি বিটুমিন সরবরাহ এবং অর্থ বিনিয়োগ কমিটির আহবায়ক পদটিও হারিয়েছেন, কারন এই দুটো পদই জিএম মার্কেটিংয়ের বিভাগে অর্ন্তভুক্ত। অর্থ্যাৎ মার্কেটিং বিভাগ থেকে প্রত্যাহারের সাথে সাথে এক সাথে তিনটি পদ হারায় ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম।  তবে  জিএম এইচ আর এবং কোম্পানি সচিব দুটো পদে এখনো তিনি বহাল তবিয়তে। যদিও যমুনা অয়েলের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসছে তাকে কোম্পানি সচিব পদ থেকে প্রত্যাহারের জন্য । এছাড়া যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইউনুছুর রহমান তাকে কোম্পানী সচিব থেকে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশও করেছিলেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। 

তবে  মজার বিষয় হলো জিএম মার্কেটিং থেকে তাকে ছড়িয়ে দেয়ার ষোল দিন অতিবাহিত হলেও এখনো   তিনি  এই বিভাগের চেম্বারটি দখলে রেখেছেন। 

 যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দাবি করছে  মার্কেটিং বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও জিএম (এইচআর) মাসুদুল ইসলাম বর্তমানেও ভিটামিন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া বিটুমিন সংক্রান্ত কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কমিটির উপর তার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান রয়েছে। 

এদিকে গতমাসের ১৬ এপ্রিল বিকেল সোয়া চারটায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের নতুন এমডি হিসাবে দায়িত্ব নেয় মো: ইউসুফ হোসেন ভুইয়া । তার দ্বিতীয় কর্ম দিবসে ১৯ এপ্রিল  সাড়ে বারোটার দিকে মাসুদুল ইসলাম অফিস কক্ষেই অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক ডিজিএম সেলস বর্তমানে জিএম  মার্কেটিং মো: হাসান ইমামের উপর । তাৎক্ষনিক বিষয়টি এমডিকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন হাসান ইমাম। অবশ্য জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের এর মানষিক  অত্যাচারে অনেকটা বাধ্য হয়ে ১৩ এপ্রিল  তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগও করেছিল, কিন্তু পরের দিন সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের অনুরোধে সেই পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাসান ইমাম । 

প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী সব কিছুতে মাসুদুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণ। কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বও তিনি।  চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারী তৎকালীন ডিজিএম এইচ আর মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরে তিন সিবিএ নেতাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃত সিবিএ নেতাদের একজন আবুল হোসেন। তিনি যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি ও নিষিদ্ধ সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগ বন্দর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। সাময়িক বরখাস্তকৃত সিবিএ এই নেতাকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে ২১ জুলাই হতে ৯ আগষ্ট ২০২৫ পর্যন্ত বিশেষাধিকার ছুটি ভোগ করেন। এরপর অনুপস্থিত,প্রাপ্ত তথ্য মতে কোতোয়ালী থানার জি আর মামলা নাম্বার ৪১৫/২০২৫ আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে ২১ জুলাই চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজেষ্টেটের আদালতে প্রেরন করে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। এমতাবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। অনুরুপ যমুনা ওয়েলের অপর সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের বেলায়। এই সিবিএ নেতার বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১২ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করেছে, এর পর অনুপস্থিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে চান্দাগাও থামায় একটি মামলায় তাকে ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়ে, ১৪ ডিসেম্বরে আদালতের মাধ্যমে জেল খানায় প্রেরন করেছে ৷ এমতবস্থায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । মজার বিষয় হলো এই দুই সিবিএ নেতা যেদিন গ্রেফতার হলেন, সেদিন থেকেই ছুটি মন্জুর হলো কিভাবে? তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে থেকে তারা ছুটির আবেদনই বা করলো কিভাবে? অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলাম নিজেই এদের স্বাক্ষর দিয়ে ছুটির আবেদন করে এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই তা মন্জুর করেন৷ মাস দুয়েক  আগে এই দুই সিবিএ নেতা জামিনে জেল হাজত থেকে বের এসেছে । এরপরই এদের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মাসুদুল ইসলাম। এমনকি সকল প্রক্রিয়াও শেষ করেছিল । অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে এক কোটি বিশ লাখ টাকার রফাদফায়  মুহাম্মদ এয়াকুবের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের বিষয়টি চুড়ান্তও করেছিলেন তিনি । তারই মধ্যস্থতায় টাকার বিষয়টি রফাদফাও হয়েছিল সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের সাথে, কিন্তু এমডিকে হুট বদলী  করে  দেয়ার তাদের প্লান ভেস্তে গেছে। তবে থেমে নেই তার কার্যক্রম।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজম নাসিরের বড় ভাই সাইফুদ্দিনকে নিয়ে হাজির হয়েছিল  নবাগত এমডির চেম্বারে। সুপারিশ করেন মাসুদুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা,  যমুনা অয়েল কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজম নাসিরের অত্যান্ত সহোচর মুহাম্মদ এয়াকুবের চাকরি ফেরতের। উল্লেখ্য যে, এই সিবিএ নেতা বর্তমানে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত। যেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীরা পুলিশ আতংকে আত্মগোপনে, সেখানে যমুনা অয়েলে মাসুদুল ইসলাম মহরা দেয় আওয়ামিলীগের শীর্ষ নেতার সহোদরকে নিয়ে ।

এদিকে জিএম মার্কেটিং থেকে তাকে বদলী করা হলেও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট সদস্যেদের বিরুদ্ধে কোন এক  অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ব্যবস্থা নেয়া হচেছনা। 

  প্রতিষ্ঠানটিতে জুড়ে এখনো সক্রিয় মাসুদুল ইসলামের সকল সিন্ডিকেট সদস্যরা। 

 ধীমান কান্তি দাস মানেজার ( ফাইনান্স) ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন) এমডির দপ্তর প্রধান কার্যালয়। এই দুজন হলো মাসুদুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী। প্রথম জন ২০০৭ সালে একাউন্টস অফিসার হিসাবে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করে। বর্তমানে ম্যানেজার ( ফাইনান্স)। দ্বিতীয় জনের চাকরিতে যোগদান ২০১১ সালে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে এদের কোনো বদলী নাই৷ যদিও ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বিপিসির সমন্বিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের অধীনস্থ কোম্পানি সমুহে ৩ বছরের অধিক কর্মরত, ওদেরকে বদলী করতে। কিন্তু এদের বদলী হয়না বরং হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে এমডির গোপনীয় সহকারে হিসাবে।  এমডির দপ্তরে যেকোনো অভিযোগ গেলে তার হাত দিয়েই যেতে হয়৷  এরফলে অনেক কিছুই নজরে আসেনা এমডির। 

মাসুদুল ইসলামকে বরাবরের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য  ফোন দেয়া হয় কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি । দেয়া হয় ক্ষুদে বার্তা এতেও সাড়া দেয়নি।