৩ আগস্ট হাসিনার ডাকে যে কারণে গণভবনে গিয়েছিলেন তামিম

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

শেখ হাসিনা ও তামিম ইকবাল। ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের ৩ আগস্ট, উত্তাল ঢাকা যখন ছাত্র-জনতার বিপ্লবে প্রকম্পিত, ঠিক তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে গণভবনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গণভবনের প্রবেশ খাতা অনুযায়ী, ওই দিন বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তিনি প্রবেশ করেন এবং বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে বের হন। দীর্ঘ চার ঘণ্টা সেখানে কী হয়েছিল?

কেন দেশসেরা এই ওপেনারকে নিয়ে হঠাৎ ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ কিংবা ‘ভারতের দালাল’ তকমা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা হচ্ছে? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, শেখ হাসিনা মূলত তামিমকে ডেকেছিলেন ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে এবং সরকারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা বা পোস্ট দেওয়ার জন্য। 

হাসিনার পরিকল্পনা ছিল, তামিমের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ দমন করা। জানা যায়, সে সময়ে তামিম সেই প্রস্তাব স্রেফ নাকচ করে দিয়েছিলেন। 

সূত্র জানায়, তামিম উল্টো শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, এই আন্দোলন যৌক্তিক এবং অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধ করে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। গণহত্যার পক্ষে অবস্থান না নিয়ে সেদিন সরাসরি জনআকাঙ্ক্ষার পক্ষেই কথা বলেছিলেন এই ক্রিকেটার।

তামিমের মতো ব্যক্তিত্বকে কেন হঠাৎ ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘ভারতের দালাল’ সাজানো হচ্ছে? সূত্রমতে, এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিবাজ চক্র। 

বিসিবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তামিম ইকবাল বিসিবির নেতৃত্বে আসতে পারেন—এমন গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই এই কুচক্রী মহলটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তারা বুঝতে পেরেছে, তামিমের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি যদি বিসিবির নির্বাচনে দাঁড়ান, তবে বর্তমানের ‘অযোগ্য ও ধান্ধাবাজ’ কর্মকর্তাদের চেয়ার হারানো নিশ্চিত। মূলত নিজেদের দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য আড়াল করতেই তারা ‘মাইনাস তামিম’ ফর্মুলা হাতে নিয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এই চক্রটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ব্যবহার করে তামিমকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার নীলনকশা সাজায়। 

প্রথম ধাপে সফল হওয়ার পর তারা তামিমকে জনগণের সামনে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। আর ঠিক এ সময়েই তারা ৩ আগস্টের গণভবনে প্রবেশের সেই তথ্যটিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাড়াটে ইনফ্লুয়েন্সার ও আইডি ব্যবহার করে তারা প্রচার শুরু করে যে, ‘তামিম লাশের ওপর দিয়ে গিয়ে হাসিনার সাথে গোপন বৈঠক করেছেন।’ 

এখানেই থেমে নেই তারা, বিশ্বকাপ ইস্যু এবং ক্রিকেটের স্বার্থে দেওয়া তামিমের কিছু পেশাদার বক্তব্যকে বিকৃত করে তাকে ‘ভারতের দালাল’ সাজানোর অপচেষ্টাও চালিয়েছে চক্রটি। 

তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—তামিম যদি বিসিবির দায়িত্বে আসেন, তবে বিসিবির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে এবং দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে। বিসিবিকে যারা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, সেই সিন্ডিকেট এখন তামিম আতঙ্কে ভুগছে।

তাই তাদের একটাই টার্গেট, বিসিবি থেকে তামিমকে মাইনাস করা! আর দিনশেষে নিজের পকেটকে ভারী করা।


আমার বার্তা/এমই