রাজউক জোন-৭
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস, সেনাপতি বিটু
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ
মমিনুর রহমান:

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন এলাকাগুলোতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠছে একের পর এক অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। আর এই অনিয়মকে পুঁজি করে এক বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে অত্র জোনের অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইমারত পরিদর্শক বিটু কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
সিন্ডিকেটের মূলে অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জোন ৭/১-এর অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াসের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজউকের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে উচ্ছেদ অভিযান—সবখানেই চলছে ঘুষ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয় এবং পরবর্তীতে নামমাত্র নোটিশ দিয়ে অভিযান ধামাচাপা দেওয়া হয়।
নকশার আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের মাসের পর মাস হয়রানি করা এবং ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায় করা এই সিন্ডিকেটের নিয়মিত কাজ। এমনকি তার দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে সহকর্মী সৎ কর্মকর্তাদেরও হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাকরির আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ইলিয়াস, যার মধ্যে ঢাকা ও নিজ এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিটু কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ:
কেরানীগঞ্জ থানাধীন সাতটি ইউনিয়নের অন্তর্গত 'উত্তর ভালো বালুচর' এলাকায় রাজউকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইমারত পরিদর্শক বিটু কুমার মন্ডল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিয়মবহির্ভূত এই নির্মাণ কার্যক্রম চললেও বিটু মন্ডল কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
অবৈধ নির্মাণে মৌন সম্মতি: বিটু কুমার মন্ডল তার দায়িত্বাধীন এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনাগুলো দেখেও না দেখার ভান করছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের দুর্নীতির শামিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনকারীদের সহায়তা: নিয়ম ভেঙে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান বা জরিমানা না করে তিনি পরোক্ষভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক: তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ ভবন মালিকদের প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে মো: ইলিয়াস ও বিটু কুমার মন্ডলকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি।
আমার বার্তা/এমই
