শিরোনাম :

  • ঝিলপাড়ে শুধুই আহাজারি ১ হাজার ৯৪২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন ভিএআর কেড়ে নিলো ম্যানসিটির জয় বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর টানা ১১ জয়ে রেকর্ডে ভাগ বসাল লিভারপুল
সন্তানের জন্য ৪৫ বছর ধরে রোজা রাখছেন মা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
১৪ মে, ২০১৯ ১৫:৩২:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


ভালোবাসা রঙহীন। এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রকাশের ভাষা থাকে না। আর সেই ভালোবাসা যদি নাড়ির টানে হয়- তার তুলনা তিনি নিজেই। স্বার্থহীন এ ভালোবাসা শুধু একজনের কাছেই আছে। স্নেহ মেশানো নরম তুলতুলে সেই ভালোবাসা দিতে পারেন শুধু একজনই, তিনি হলেন ‘মা’।

তেমনই এক মা সুখিরন নেছা (৭৫)। যিনি হারিয়ে যাওয়া বড় ছেলে শহিদুল ইসলামকে ফিরে পাওয়ার পর প্রায় ৪৫ বছর ধরে টানা রোজা রাখছেন। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবেন এমন সংকল্প এই মায়ের।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী সুখিরন নেছা।

জানা যায়, সময়টা ১৯৭৫ সাল। দেশের পরিস্থিতি তখন ভালো না। বড় ছেলে শহিদুলের বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। কোনো এক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসে না। চারদিকে খোঁজাখুঁজি। কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। মা সুখিরন পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। কিছুতেই শহিদুলকে যখন ফিরে পাওয়া গেল না, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন- ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর থেকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবেন।

সুখিরন নেছা বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার চার দিন পর ছেলে শহিদুল ইসলাম বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে মা বলে চিৎকার করে সে। মা ডাক শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বুকে আগলে ধরেন নাড়িছেঁড়া ধন।

সেই থেকে রোজা রাখছেন সুখিরন। এখন তার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তিন ছেলে তিন মেয়ের জননী তিনি। বয়সের ভারে প্রতিদিন রোজা রাখতে কষ্ট হয় তার। কিন্তু রোজা ছাড়ছেন না। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত রোজা-নামাজ আদায় করে যেতে চান এই মমতাময়ী মা।

বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমার জন্য মা কষ্ট করে রোজা রাখেন। বারণ করলেও শোনেন না। সংসারে যা জুটে তা দিয়ে ইফতার ও সেহরি সারেন মা। কারণ রোজা রাখার সিদ্ধান্তে আমাকে বুকে ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন মা।

তিনি বলেন, মা তো মা। মায়ের কোনো বয়স লাগে না। সময় লাগে না। মা শুধু সন্তানকে দিতেই যানে, নিতে যানে না। সন্তানের মঙ্গলের জন্য সব ত্যাগ শিকার করতে পারেন মা। তাদের মধ্যে আমার মা সুখিরন একজন। পৃথিবীর সব ভালোবাসাকে তাক লাগিয়ে মা যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য গোটা মায়ের জাতকে আকাশসম উঁচু করেছেন। গর্বিত করেছেন গোটা দুনিয়ার সন্তানদের।

 



আমার বার্তা/১৪ মে ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন