শিরোনাম :

  • মধ্যরাত পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক, শর্ত জুড়ে দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার আজ সশস্ত্রবাহিনী দিবস ওয়াটারফ্রন্ট স্মার্টসিটি হবে কেরানীগঞ্জে ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট, বড় ভাই এবার প্রধানমন্ত্রী ৭ তলার জানালা দিয়ে উড়ে আসছে লাখ লাখ টাকা, কুড়োতে হুড়োহুড়ি
শ্বশুরবাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় স্ত্রীকে বর্শা মেরে হত্যা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:০০:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


শ্বশুরবাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৭) বর্শা মেরে হত্যা করেছেন স্বামী শাহীনুর রহমান (৩৫)। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার স্থলবল্লা পূর্বপাড়া এলাকায় শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান স্বামী শাহীনুর রহমান, শ্বশুর আব্দুস সামাদ ও শাশুড়ি তারা বানু। নিহত স্বপ্না আক্তার উপজেলার ভ্রাহ্মণপাড়িল এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মুন্নান মিয়ার মেয়ে ও দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম তুহিন আলী বলেন, স্বপ্নাকে বর্শা দিয়ে একাধিক আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। স্বপ্নার মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের আব্দুস সামাদের প্রবাসী ছেলে শাহীনুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ভালোই চলে তাদের সংসার। এর মধ্যে তাদের ছেলে জন্ম নেয়ার পর শাহীনুর দেশে চলে আসেন। এরপর কাজকর্ম না থাকায় হতাশাগ্রস্ত শাহীনুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

সেই সঙ্গে শাহীনুর বিভিন্ন সময় স্বপ্নাকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেন। স্বপ্না কয়েক ধাপে টাকা এনে দেন। সম্প্রতি শাহীনুর তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকার আনার জন্য চাপ দেন।

এতে অসম্মতি জানালে স্বামীর নির্যাতন বেড়ে যায়। সপ্তাহ খানেক আগে স্বপ্নাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। পরে শাহীনুরের মা-বাবা পুত্রবধূ বুঝিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

স্বপ্নার বাবা মুন্নান মেম্বার বলেন, জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ার কারণে স্বপ্নাকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতাল গিয়ে দেখি লাশ পড়ে আছে। এ সময় শাহীনুরসহ তার পরিবারের কেউ হাসপাতালে ছিল না। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।



আমার বার্তা/০৫ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন