শিরোনাম :

  • আজ পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ যে চ্যানেলে দেখা যাবে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচ সৌদি অ্যারামকোতে প্রথমবারের মতো নারী প্রধান ইসরায়েলি হামলায় গাজায় রক্তবন্যা, ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত
এমপিওভুক্ত হওয়ায় নতুন ভবন তৈরি
নীলফামারী প্রতিনিধি :
০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫৯:১৯
প্রিন্টঅ-অ+


নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী গ্রামের বালারপুকুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের কলেজ শাখা এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে গত ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম নেই। বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো শিক্ষার্থীও দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত ২৩ অক্টোবর এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠনটির নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে। মাঠ ভরাট করা হচ্ছে। ধান ক্ষেতের পাশে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। কোনো শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষা উপকরণের রুম ও ৮টি বেঞ্চ পাওয়া গেলে ময়লা আর্বজনায় ভরপুর। কম্পিউটার ল্যাব নেই। আটজন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী থাকলেও কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয় স্বপন বাজারের মফিজার রহমান বলেন, গত ১০ বছর ধরে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী আসতে দেখিনি। দুই একজন শিক্ষক মাঝে মাঝে আসত। গত ১৫ দিন থেকে সেখানে উন্নয়নের মহোৎসব চলছে। সেখানে শিক্ষার্থী না থাকলেও বর্তমানে অনেক শিক্ষকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ যাবতীয় তথ্য অধ্যক্ষ স্যারের নিকট আছে। চলতি বছর কতজন জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

প্রতিষ্ঠানের বিএম শাখায় ১১ ও ভোকেশনাল শাখায় ৯ জন চাকরি করলেও পাওয়া যায়নি হাজিরা খাতা।

যোগাযোগ করা হলে বালারপুকুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মুঠোফোনে বলেন, বিএম শাখা চালু আছে তবে বর্তমানে ক্লাস করা হয় না। এখানে ফরম পূরণের আগের দিন পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ আছে। আশা করি দুটি ট্রেডে ৫০ জন করে ১০০ জন আগামী বছর পরীক্ষা দেবে। চলতি বছর জেএসসি (ভোকেশনাল) থেকে সাতজন ডোমারে পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে তারা কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির একটি ঘর ছাড়া কিছুই ছিল না। গত ২৩ অক্টোবর এমপিওভুক্ত হওয়ার পর অধ্যক্ষ বিষয়টি মোবাইল ফোনে আমাকে জানান।

তিনি বলেন, বিএম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। সেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের কোনোভাবে মনিটরিং করার সুযোগ নেই।

জলঢাকা উপজেলার প্রতিষ্ঠান হলেও সুকৌশলে পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায় পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের যে সব ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে তারা সবাই ইতোমধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে পুনরায় পরীক্ষা দিচ্ছে বলে জেনেছি।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজাউদৌলা বলেন, বালারপুকুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। সেখানে শিক্ষার্থী না থাকলে দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে।



আমার বার্তা/০৪ নভেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন